অভিযোগ কৃষকদের
রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ২১:১৬ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৩৯ পিএম
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম, সেচের পানির নিয়ে হয়রানি রোধসহ আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিতের দাবিতে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় তানোর উপজেলা চত্বরে বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক আয়োজিত সমাবেশে স্থানীয় শতাধিক কৃষক অংশ নেন।
সমাবেশে কৃষকরা দাবি করেন, সার থেকে কীটনাশক সংগ্রহ, সেচের পানি থেকে কোল্ড স্টোরেজ ভাড়াÑ সবখানেই অনিয়ম ও দুর্নীতি। ফসল উৎপাদনে এসব অত্যাবশ্যকীয় উপাদান সংগ্রহে কৃষকদের পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা এসব অনিয়ম থেকে নিস্তার চান তারা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে ডিলারদের কাছে সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বেশি দাম দিলে বাজারে সার মিলছে। কৃষি কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে জানালে তারা বলেন ‘সার বাইরে থেকে আসে, তাই দাম বেশি’। এমন মন্তব্যেরও তীব্র নিন্দা জানান কৃষকরা।
এ সময় কৃষকরা দাবি করেন, অবিলম্বে সার সিন্ডিকেট বন্ধ করে সরকার নির্ধারিত দামে সার বেচার ব্যবস্থা করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, একক ব্যক্তিকে সেচ কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়ায় সেচ খাতে চলছে স্বেচ্ছাচারিতা। ফলে আলু চাষে প্রতি বিঘায় ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ধান চাষে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সেচের খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। একক ব্যক্তির লাভের চিন্তায় প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি দেওয়া হচ্ছে। এতে ফলন কমে যাচ্ছে। ফলে কৃষক একদিকে পড়ছে ক্ষতির মুখে। অন্যদিকে খরচও বাড়ছে।
আলু সংরক্ষণের স্টোর ভাড়া আগে ছিল কেজিপ্রতি ৪ টাকা। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৬ টাকা করা হয়েছে। এতে ধনী মালিকরা লাভবান হলেও সাধারণ কৃষক আরও অসহায় হয়ে পড়ছেন।
কৃষকদের দাবি, সেচ স্কিমের আওতাভুক্ত কৃষকদের নিয়ে সেচ কমিটি গঠন করতে হবে। সেচ কার্যক্রম সমিতির মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে, যাতে স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হয়।
ভেজাল কীটনাশক বাজারে সয়লাব উল্লেখ করে কৃষকরা বলেন, কীটনাশকের দাম ও মান দুটিতেই অনিয়ম চলছে। কীটনাশকের প্যাকেটে দাম লেখা থাকে ৯০০ টাকা। কিন্তু বাজারে বিক্রি হয় ৫০০-৬০০ টাকায়। আগের তুলনায় এখন এক মৌসুমে ২-৩ বার নয়, বরং ৬-৭ বার কীটনাশক ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বোঝা যায়, ভেজাল কীটনাশক কৃষকদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। তারা কীটনাশকের নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেওয়া ও ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে কৃষক প্রতিনিধিদল উপজেলা ইউএনও, কৃষি কর্মকর্তা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলীর কাছে স্মারকলিপি দেন।