বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ২১:১২ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৪২ পিএম
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় নিয়ম-নীতিহীনভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি। ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন, তদারকি কিংবা প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক, ঘুমের ওষুধ, যৌন উত্তেজক ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিদেশি ওষুধ।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ বিক্রির এই অবাধ প্রক্রিয়ায় জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে ভয়াবহ প্রভাব। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে অনেক রোগী আক্রান্ত হচ্ছেন নতুন ও জটিল রোগে। এতে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এসব ফার্মেসির মালিক ও কর্মচারীরাই হয়ে উঠেছেন কথিত ‘ডাক্তার’।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পৌর এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারগুলোতে গড়ে উঠেছে ২ শতাধিক ফার্মেসি। অধিকাংশ ফার্মেসিতেই নেই প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট কিংবা ড্রাগ লাইসেন্স। শুধু পৌর শহরেই রয়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০টি ফার্মেসি, যার বেশিরভাগই চলছে নিয়ম-নীতির বাইরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ফার্মেসি মালিকদের অনেকেই অন্যের দোকানে কাজ করে সামান্য অভিজ্ঞতা নিয়েই খুলে বসেছেন নিজস্ব ফার্মেসি। অনেক সময় চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই রোগীদের ওষুধ সরবরাহ করা হয়, আর দাম রাখা হয় ইচ্ছেমতো। কখনও ৫ টাকার ওষুধ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়।
এছাড়া অনেকে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের পাশাপাশি অবৈধভাবে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিক্রি করছেন। শুধু তা-ই নয়, ডাক্তার না হয়েও কিছু ফার্মেসির মালিক নিজেরা প্রেসক্রিপশন লিখে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভুয়া ডাক্তার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী পাঠিয়ে কমিশনের নামে মাসোহারা খাচ্ছেন।
স্থানীয় মা-মনি ফার্মেসির কর্ণধার গোলাম মোস্তফা জানান, বিশ্বনাথে আমি দীর্ঘদিন ধরে ফার্মেসি ব্যবসায় জড়িত। আমার ফার্মেসি আমি সরকারের সব নিয়মনীতি মেনেই পরিচালনা করছি। আমাদের ফার্মাসিস্ট রয়েছে এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি করি না। আর দামের ক্ষেত্রে শতভাগ সততার সাথে ব্যবসা করে থাকি।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, যেসব ফার্মেসিতে পর্যাপ্ত সুবিধা ও ওষুধ রাখার সুব্যবস্থা নেই, সেগুলোকে লাইসেন্স দেওয়ার আগে ভাবতে হবে কর্তৃপক্ষকে।