গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:৫৪ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:০৬ পিএম
চিহ্নিত অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ও জামায়াত নেতা মিলেমিশে করছেন তিস্তার বালু লুট। এমনই অভিযোগ উঠেছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের সভাপতি মোকলেছুর রহমান ও ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকান ডাক্তারপাড়া এলাকার অবৈধ বালু ব্যবসায়ী হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৫ অক্টেবর) এমন অভিযোগ পাওয়ার পর সকাল ৭টার দিকে ওই বালুর পয়েন্টে গিয়ে বালু উত্তোলন যন্ত্রপাতি জব্দ করে এবং
এ সময় সুজন মহন্ত (২৭) নামে এক যুবকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাোয়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মৃধা।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগে হামিদুল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন আওয়ামী নেতাদের ম্যানেজ করে ঘাগট এবং তিস্তা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। সে সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে তার নামে কয়েকটি মামলা হয়েছে। তবে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে এসব মামলা থেকেও তিনি বেরিয়ে এসেছেন। আওয়ামী সরকারের পতনের পর তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে এবার তিনি জামায়াত নেতা মোকলেছুর রহমানকে ব্যবহার করে ওই নেতার জমিতেই ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে তিস্তার বালু উত্তোলন করছেন।
শুক্রবার বিকালে আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী পাইকান হাজীপাড়া এলাকায় সরজমিনে গেলে দেখা যায়, তিস্তা নদীর ডান তীরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন হামিদুল ইসলাম ও জামায়াত নেতা মোকলেছুর রহমান।
এ সময় কাজের দায়িত্বে থাকা শ্রমিক বাদল চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মোকলেছুর নামের এক ব্যক্তি এখানে বালু তুলছেন হামিদুলের মেশিন দিয়ে। আর আমি কিছু জানি না, আমি লেবার মানুষ।পাশেই কথা হয় তিস্তার পাড়ে বসবাস করা ৬৫ বছরের খুকি নামের এক নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এভাবে বালাগুলা তুলি নিয়া যায়চোল নদীত পানি আসলে তো আবার ভাঙি যাইবে। হামরা কথা কইলে হামার কথার দামে দেয় না। আবার তো বাঁধের পিচিংয়ের গোড়া আলদা হইবে।’
কথা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রিপন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে মূলত রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে প্রায় দেড় লাখ সেফটি বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা করে মেশিন লাগিয়ে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে বালু তুলে বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন। এভাবে বালু তোলা হলে বর্ষাকালে গর্ত তৈরি হবে এবং আশপাশের ফসলি জমি, তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৩০ থেকে ৪০টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে যাবে। আমরা এখানকার সকল বাসিন্দা এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের মাধ্যমে আমাদের রক্ষা করার অনুরোধ করছি। আমরা বারবার তিস্তার ভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। এ বিষয়ে জামায়াত নেতা মোকলেছুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ‘বলেন, ‘আমি ওখানে একটি চাতাল করার জন্য বালু তুলতেছি।’ এভাবে বালু তোলা বৈধ কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এটি অবৈধ, তবে আর দুই-তিন দিন তুললে হয়ে যাবে।’
এ বিষয়ে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা খেতে খেতে সব শেষ হয়ে গেছে ভাই। অনেক দিন ধরে ব্যবসাও বন্ধ, পকেটও ফাঁকা। এই জন্যই আবার শুরু করছি। আপনি যেহেতু আসছিলেন আপনার বিকাশ নম্বরটা দেন, কিছু খরচ পাঠায় দেই।’
এ বিষয়ে আলমবিদিতর ইউনিয়নের জামায়াতের আমির মাওলানা সামিউল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি মোখলেছুর জামায়াত নেতা অস্বীকার করে বলেন, ‘ওনি জামায়াতের কোনো পদ-পদবিতে নেই। এখন তো ভোটের একটা সিজন তৈরি হয়েছে, ওনি ভোটার এবং সমর্থক।’ তবে ওই নেতার নাম বলার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াত নেতা চিনে ফেলেন তাকে। তার কথাতেই বোঝা যায়, মোকলেছুর রহমানের জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘গতকালকে আপনাদের অভিযোগ পাওয়ার পরপরেই আমরা ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে, আজ সকালেই আমি ঘটনা স্থলে উপস্থিত হলে সুজন মহন্ত নামে একজনের দেখা পাই, তিনি হামিদুলের বালুর পয়েন্ট দেখা শোনা করে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদাল পরিচালনা করে তার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করি ও অনাদয়ের তিন মাসের জেল এবং বালু উত্তোলন যন্ত্রপাতিগুলো জব্দ করি।