শেখ সিরাজুল ইসলাম, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০০ পিএম
চুনিলালের বিখ্যাত রাজভোগ মিষ্টি। প্রবা ফটো
খাঁটি দুধের ছানায় তৈরি সরাইলের অরুয়াইল বাজারের চুনিলালের রাজভোগ মিষ্টি স্বাদে ও গুণে অন্য মিষ্টির তুলনায় ব্যতিক্রম। আকারে বড় এই মিষ্টি আকর্ষণীয় মিষ্টান্ন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। রাজভোগ বিক্রি হয় পিস হিসেবে। এই মিষ্টির খ্যাতি ছড়িয়েছে চারদিকে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসেন চুনিলাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে রাজভোগ খেতে। এই রাজভোগ মিষ্টি পরিচিতি পেয়েছে চুনিলালের মিষ্টি নামে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার মেঘনা-তিতাস বিধৌত বৃহত্তর ব্যবসা কেন্দ্র অরুয়াইল বাজারের দক্ষিণ দিকে চুনিলাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে রাজভোগ মিষ্টি তৈরি করছেন সুনিল মল্লিক ওরফে চুনিলাল। ৭১ বছরের জীবনে ৬০ বছরই মিষ্টান্ন তৈরির কাজ করছেন তিনি। তার জীবনের সাথে মিষ্টান্নের যেন অবিচ্ছেদ্য এক সম্পর্ক।
মিষ্টি বানানোর কাজে সাহায্য করেন ছেলে গোপাল মল্লিক । চুনিলাল উপজেলার অরুয়াইল পশ্চিম পাড়া গ্রামের রমনী মল্লিকের ছেলে।
প্রতি পিস রাজভোগের দাম ৫০ টাকা। নিজের এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসেন এই মিষ্টি কিনতে। অনেকে নিয়ে যান বাড়িতে, কেউ কেউ বিদেশে থাকা স্বজনদের জন্যও পাঠান। তার দোকানে রাজভোগ ছাড়া অন্য কোন মিষ্টি তৈরি ও বিক্রি হয় না। একেকটি রাজভোগের ওজন ১৫০ গ্রাম হয়ে থাকে। গরুর খাঁটি দুধের ছানায় তৈরি এই রাজভোগ খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে চুনিলালের মিষ্টির খ্যাতি।
চুনিলাল মল্লিক জানান, বাল্যকালে দশ বছর বয়সে নাসিরনগর উপজেলার হরিনবেড় বাজারের গৌরাঙ্গ রায়ের কাছ থেকে মিষ্টি তৈরির কাজ শেখেন তিনি। সেখান থেকেই দুধের ছানা থেকে রাজভোগ তৈরির কাজ শিখেছেন তিনি। পরবর্তীতে নিজ এলাকার অরুয়াইল বাজারে এসে ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে সাধারন মিষ্টি তৈরি করলেও ৩৩ বছর ধরে বড় আকারের বিশেষ ধরনের রাজভোগ মিষ্টি তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন।
শুরুতে একা মিষ্টি তৈরি করলেও এখন ছেলে গোপাল মল্লিকও তার সঙ্গে কাজ করেন। চাহিদা বেশি থাকলেও মান বজায় রাখতে দৈনিক ৪০০ পিসের বেশি তৈরি করা হয় না।
চুনিলাল বলেন, এই মিষ্টি ৫ টাকা পিস দরে বিক্রি দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন ৫০ টাকা করেছি। দিন দিন কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় রাজভোগের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাভ কম হলেও মানুষ খেয়ে প্রশংসা করে, এতেই অনেক ভালো লাগে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসেন আমার দোকানে। অনেকে আবার বিদেশেও নিয়ে যান।
নিজের বানানো রাজভোগ মিষ্টির পাশে চুনিলাল। প্রবা ফটোচুনিলালের ছেলে গোপাল মল্লিক বলেন, ‘আমাদের রাজভোগে ৯৯ ভাগ থাকে দুধের ছানা আর এক ভাগ ময়দা। মিষ্টি যেন একটু ফোলে, সেজন্য অল্প ময়দা দেয়া হয়। ভেজালমুক্ত হওয়ায় মানুষজন খেতে পছন্দ করেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু ব্যবসার চিন্তা করলে আরও বেশি বানিয়ে বিক্রি করতে পারবো, কিন্তু স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে। মানুষদের ভাল মিষ্টি খাওয়াতে চাই।
উপজেলার নোঁয়াগাও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের বাসিন্দা মালয়েশিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান মৃধা বলেন, চুনিলালের রাজভোগ মিষ্টির কথা লোকমুখে শুনে এসেছি। মিষ্টি খেয়ে অনেক স্বাদ পেয়েছি।
অরুয়াইল ইউনিয়নের বাসিন্দা লেখক সাংবাদিক মনসুর আলী বলেন, চুনিলালের মিষ্টির সুনাম ছড়িয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। লোকজন বিভিন্ন এলাকা থেকে মিষ্টি খেতে আসেন। এটা আমাদের খুব ভালো লাগে। অন্যদিকে চুনিলালের মিষ্টির সুনাম বৃদ্ধির সুযোগে ৩০ টাকার মিষ্টির দাম ৫০ টাকা পিস করে ফেলেছে। এভাবে দাম বাড়ানোর বিষয়টা দুঃখজনক।
একই গ্রামের বাসিন্দা লোপাড়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শামীম আহমেদ বলেন, আমাদের গ্রামের চুনিলাল মল্লিকের রাজভোগ মিষ্টি বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিতি পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। এটি আমার এলাকার ঐতিহ্যে রূপ নিচ্ছে।