বিএলআরআইতে অতিরিক্ত সচিব
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৪৮ পিএম
গবেষণা এবং উন্নয়ন ছাড়া কোনো শিল্প বা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর। তিনি বলেন, আমাদের গবেষণায় আরও জোর দিতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা সংক্রান্ত লেখা নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সমাপ্ত গবেষণাসমূহের ফলাফল ও অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৫’ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার সাভারে বিএলআরআইর ক্যাম্পাসে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মো. ইমাম উদ্দীন কবীর আরও বলেন, দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় যেসব সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত মূল্যবান। এসকল সুপারিশ অনুসরণ করা গেলে বিএলআরআই’র গবেষণার মানোন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে। এসব গবেষণা শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। কেননা গবেষণার মূল সাফল্যই নির্ভর করে এর সুফলভোগীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তাই আমাদের প্রত্যাশা, এসব গবেষণার ফলাফল দ্রুত সময়ে মানুষের দুয়ারে পৌঁছবে।
বিএলআরআই মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়টির যুগ্মসচিব শাহ আলম মুকুল। অনুষ্ঠানের শেষ দিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান, সুপারিশমালা উপস্থাপনের পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব।
ড. শাকিলা ফারুক বলেন, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা যেসব সুপারিশ দিয়েছে বিএলআরআই’র সক্ষমতা সাপেক্ষে সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গবেষণা কার্যক্রম নেওয়া হবে। প্রাণী ও পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমানোর লক্ষ্যে গবেষণা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে বিএলআরআই অচিরেই স্টেকহোল্ডার সভা আয়োজন করবে। পাশাপাশি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিএলআরআই উদ্ভাবিতে এইচ৯এন২ ভ্যাকসিনটি হস্তান্তর করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েও অতিদ্রুত এ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা হবে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞ এবং সংগঠনের প্রতিনিধি, খামারি ও বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
এবারের কর্মশালায় ছয়টি সেশনে ৩৩টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে প্রথম দিনে ‘অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস’ শীর্ষক প্রথম সেশনে ছয়টি, ‘অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ডিজিজ অ্যান্ড হেলথ’ শীর্ষক দ্বিতীয় সেশনে ছয়টি এবং ‘এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক তৃতীয় সেশনে পাঁচটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
দ্বিতীয় দিনে ‘বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড ডেইরি রিসার্চ’ শীর্ষক চতুর্থ সেশনে ছয়টি, ‘নিউট্রিশন, ফিডস অ্যান্ড ফিডিং ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক পঞ্চম সেশনে পাঁচটি এবং ‘সোশিও-ইকোনোমিকস অ্যান্ড ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ’ শীর্ষক ষষ্ঠ ও সর্বশেষ সেশনে পাঁচটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপনার পাশাপাশি কর্মশালায় বিএলআরআই’র চলমান বিভিন্ন গবেষণার ওপর মোট ৬১টি পোস্টারও প্রদর্শন করা হয়।
এর আগে বুধবার কর্মশালাটির উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়টির সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, সম্মানীয় অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান।