গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৫ ২১:২৬ পিএম
বন্ধুত্বের টানে সাত সমুদ্র পেরিয়ে নাটোরের গুরুদাসপুরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ব্যবসায়ী তেরি পারসন। গত মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে রিসিভ করেন গুরুদাসপুরের সেতু মোল্লা। পরে বন্ধুকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফেরেন সেতু। নিজের হাতে অটোরিকশা চালিয়ে গ্রাম ঘুরিয়ে দেখান বিদেশি অতিথিকে।
সেতু মোল্লা জানান, তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক ও রাজমিস্ত্রী। পাশাপাশি নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করেন। প্রায় ২৫ দিন আগে তেরি পারসন তার এক ভিডিওতে লাইক দেন এবং মেসেঞ্জারে কথা বলেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের বন্ধুত্ব। মাত্র ২৫ দিনের বন্ধুত্বই বাংলাদেশে ছুটে আসেন তেরি পারসন। ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে বন্ধুকে দেখতে এসেছেন এই মার্কিন নাগরিক। সঙ্গে এনেছেন দুই ভরি ওজনের সোনার চেইন, শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা ও কিছু উপহার।
সেতুর পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বেশ আনন্দময় সময় কাটাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও গল্পে সময় কাটাতে ভীষণ পছন্দ করছেন এই বিদেশি।
তেরি পারসন জানান, বাংলাদেশে এসে স্থানীয় খাবারের মধ্যে মুরগির মাংস, চা, কফি ফল খেয়েছেন, যা তার খুব ভালো লেগেছে। এখানকার মানুষের ভালোবাসা ও আতিথেয়তায় তিনি মুগ্ধ।
তিনি আরও বলেন, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে অনন্য অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশে এসে বুঝেছি, সরল মানুষ কতটা হৃদয়বান হতে পারে। আমেরিকায় জীবন বিলাসী ও ব্যয়বহুল। কিন্তু এখানে মানুষ খুব সাধারণভাবে বাঁচে আর সেটাই অসাধারণ। আমি আবারও ৬ মাস পর বাংলাদেশে আসব এবং আমার বন্ধুদের বলব, বাংলাদেশে এসে ঘুরে যেতে। এটা সত্যিই এক চমৎকার দেশ।
এখনও আরও ১১ দিন বাংলাদেশে থাকবেন তেরি পারসন। এই সময় তিনি গ্রামের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। আর বন্ধুত্বের এই গল্প হয়ে থাকছে দুই দেশের সেতুবন্ধনের এক অনন্য নিদর্শন।