রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৪৪ পিএম
রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভায় সরকারি অর্থে কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দকৃত অর্থে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে বাজারদরের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে পণ্য ক্রয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ করেও উচ্চমানের হিসেবে বিল দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার জন্য ৫০০ পিস এলইডি বাল্ব কেনা হয়। প্রতিটি ১৫ ওয়াটের বাল্বের বাজার মূল্য যেখানে ২১৮ টাকা, সেখানে পৌরসভায় বিল দেখানো হয়েছে ৩১৮ টাকা দরে। তিন কয়েল (১.০) তার কেনা হয় প্রতি কয়েল ১৬ হাজার ২০০ টাকায়, যার বাজারদর প্রায় ৩ হাজার টাকা। এছাড়া ১০০ পিস লাইট হোল্ডার কেনা হয়েছে প্রতি পিস ২১০ টাকা দরে, যা বাজারে বিক্রি হয় ৭০ টাকায়। ১০০ ওয়াটের ১৩টি ফ্লাড লাইট কেনা হয়েছে ৩ হাজার ৬৪০ টাকা দরে, যদিও এর প্রকৃত দাম ৩ হাজার ২০০ টাকা। স্থানীয় সূত্রে দেয়া তথ্য মতে, সরবরাহ করা হয়েছে ৫০ ওয়াটের ফ্লাড লাইট, কিন্তু বিল দেখানো হয়েছে ১০০ ওয়াটের হিসেবে।
পৌরসভা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আরএফকিউ পদ্ধতিতে একটা জিনিস ক্রয়-বিক্রয় করতে গেলে এর সঙ্গে ১০ পার্সেন্ট ভ্যাট ও ৫ পার্সেন্ট আইটি যোগ হয়। একজন ভেন্ডরের মাধ্যমে একাধিক দরপত্র জমা দেওয়া হয় এবং সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়। তাই বাজারমূল্য ও বিলের অঙ্কে পার্থক্য থাকতেই পারে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এভাবে নিয়মের আড়ালে সরকারি অর্থ লুটপাট চলছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুপচাপ দর্শকের ভূমিকায়। তারা অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক আরাফাত আমান আজিজ বলেন, কাজটি আরএফকিউ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে। এটাও একটা টেন্ডারের পদ্ধতি। এটি তখনই করা হয় যখন কোন জিনিস দ্রুত ভিত্তিতে কিনতে হয়, ওটিএম করতে গেলে বড় কাগজে কলমে এটা মানতে হয়, ওটা মানতে হয়। এই বিষয়গুলোকে এড়িয়ে চলার সময় অনেক ক্ষেত্রে লোকাল মার্কেট থেকে অনেক কিছু ক্রয় করার জন্য আরএফকিউ করা যায়।পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, সমস্ত মালামাল সরবরাহ করেছে রোমের এন্টারপ্রাইজ। সরকারি রেটসিট অনুসরণ করেই টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। সেই অনুপাতে ঠিকাদার মালামাল সরবরাহ করেছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
তবে অভিযোগ বিষয়ে জানতে নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক আরাফাত আমান আজিজের সরকারি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।