× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএনপি নেতার বাড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযান, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:০৪ পিএম

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:১৬ পিএম

বিএনপি নেতার বাড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযান, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল আজিজ বাদশার বাড়ি থেকে একটি বিদেশি রাইফেল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। 

সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টায় উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাচিয়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল রাতে ওই এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাইয়্যিব হাসানের নেতৃত্বে রায়পুর সেনা টহলদল।

অভিযানের সময় আমিনুল আজিজ বাদশার বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি তৈরি .২২ রাইফেল এবং ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের আগেই বাদশা গাজী পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত গভীর হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে থাকলেও সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু মানুষ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীর একাধিক ব্যক্তি জানান, সম্প্রতি এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত নজরদারি বাড়িয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই হয়তো এ অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে এটিকে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

পলাতক আসামি আমিনুল আজিজ বাদশা (৫০) দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাচিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ গাজীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিএনপির ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

 বিএনপি নেতা আমিনুল আজিজ বাদশা ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেছেন, তার বাড়িতে অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে সেনাবাহিনীকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। আমার কোনো অস্ত্র নেই, আমি নির্দোষ।’

অন্যদিকে, বাদশার অনুসারীরা অভিযোগ করেছেন যে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। তাদের দাবি, আসামি এলাকার সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী, তাকে হয়রানি করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসন কোনো মন্তব্য করেনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন উদ্যোগ এলাকায় ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘আমাদের কাছে ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো মনে হচ্ছে। প্রশাসনের ভেতরের কিছু পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তি বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে। আমরা মনে করি, এটি রাজনৈতিকভাবে হয়রানির একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।’

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাওসার বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জেনেছি। সেনাবাহিনীর অভিযান ছিল নিয়মিত নিরাপত্তা তৎপরতার অংশ। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি থানায় জমা হয়েছে, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাইয়্যিব হাসান জানান, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালাই। এ অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে তাকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি রায়পুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে থানায় জমা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি থানায় অস্ত্র আইনে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সেনাবাহিনী উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা