× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অবাধে চলছে জাটকা নিধন

মেঘনায় যুবলীগ নেতাকে দিয়ে নৌ-পুলিশের বেপরোয়া বাণিজ্য!

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:৫৮ পিএম

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:৫৯ পিএম

মেঘনায় যুবলীগ নেতাকে দিয়ে নৌ-পুলিশের বেপরোয়া বাণিজ্য!

ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মেঘনা নদীতে চলছে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অভিযান। তবে এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার বড়খেরী নৌ-পুলিশের সহায়তায় অবাধে জাটকা ইলিশ নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নৌকা প্রতি ১৫ হাজার টাকা নিয়ে মা-ইলিশ ধরার অনুমতি দিচ্ছে নৌ-পুলিশ। এমনটাই জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

মাছ শিকারে যাওয়া তিন জেলে এ প্রতিবেদককে জানান, নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে বড়খেরী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাইলকে দিয়ে নৌকা প্রতি ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। সে ওই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে এবং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সফিকুর রহমানের বিশ্বস্ত লোক। তাকে দিয়ে নৌ-পুলিশ বেপরোয়া বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। নৌ-পুলিশের এমন বেপরোয়া চাঁদাবাজির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরাল হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২১ দিনের জন্য প্রতি নৌকা ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে তারা মাছ শিকার করছেন। যারা ১৫ হাজার টাকা দিতে না পারবে তারা দৈনিক ১ হাজার টাকা দিয়ে নদীতে নৌকা নামাচ্ছেন। বর্তমানে নৌ-পুলিশ ও ইসমাইলের তত্বাবধানে প্রায় ২৫টি নৌকা প্রতিদিন ভোরে ও রাতে মেঘনা নদী থেকে জাটকা নিধন করছেন। 

গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরা, বিক্রি ও মজুদের ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রামগতির মেঘনা নদীতে প্রকাশ্যে জেলেরা জাটকা ইলিশ শিকার করছে। মাছ শিকারে সহায়তা করছেন বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সফিকুর রহমান। 

সরেজমিনে শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার রামগতি বাজার মাছঘাটের পুর্ব পাশে ও ব্রিজঘাট এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বেশ কয়েকজন জেলেকে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। এ সময় তাদের ছবি তুলতে গেলে তারা কোন আপত্তি করেননি। বরং. তারা হেঁসে বললেন,  ভাই ছবি তুলে কি করবেন? আমরা সব লাইনঘাট ঠিক করে আসছি। নৌ-পুলিশকে ১৫ হাজার টাকা আগে জমা দিতে হয়েছে। থানার দালাল ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সে সব নিয়ন্ত্রণ করে। 

সালাহ উদ্দীন ও দিদার মাঝি নামে দুই জেলে  বলেন, তারা নৌ-পুলিশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নদী যাচ্ছেন। তবে টাকার অংকের কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী খুরশিদ মাঝি বলেন, অভিযান চলাকালীন সময়ের জন্য নৌকা প্রতি ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেন নৌ-পুলিশের পক্ষে ইসমাইল। তিনি ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। আবুল কালাম মাঝি বলেন, এই ঘাটে ইসমাইলের তত্বাবধানে মোট ২৫টি নৌকা নিয়মিত চলে। সবগুলো নৌকা চুক্তিতে চলছে। যারা টাকা দেয়নি তাদের নৌকা নদীতে নামলেই আটক করবে পুলিশ।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইসমাইল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে গুজব আখ্যা দিয়ে এই প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার প্রস্তাব দেন।

রামগতির বড়খেরী নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মো. সফিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাই আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেন বলে ফোন কেটে দেন।  

রামগতি থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। নৌ-পুলিশ এই ধরনের কর্মকাণ্ড করে থাকলে সেই জবাব তাকেই দিতে হবে।

রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ উজ জামান বলেন, নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ লোক মুখে আমরাও শুনে আসছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি নৌকা আমরা আটক করেছি। বিষয়টি তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

চাঁদপুর নৌ-অঞ্চলের পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা