নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:২৭ পিএম
চারদিকে পানি আর পানি, আর সেই পানিতে ছোট বাচ্চা, বয়স্ক মানুষ আর গ্রামের গরু-বাছুর গোসল করে। তার মাঝেই রয়েছে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। দূর থেকে দেখে মনে হবে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে এমন দৃশ্য। একটু বাতাস কিংবা ঝড়ো হাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পুকুরের মাঝে হেলে পড়তে পারে সেই খুঁটিটি, ঘটতে পারে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এমনই চিত্র দেখা গেছে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মানপুর গ্রামে।
সোমবার ( ২০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের পাশে ২.৭৪ একর জায়গা জুড়ে পুকুরের অবস্থান। গত বছরে পুকুর সংস্কার ও পাড় কেটে পুকুরটি বড় করেন মালিক পক্ষ। এতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটির মাটি আলগা হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
মানপুর গ্রামের বাসিন্দা রেখা বেগম বলেন, পুকুর সংস্কারের আগে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি পাড়ের উপরে ছিল। এখন খুঁটিটা পুকুরের মাঝে হওয়ায় থালাবাসন ধোয়া ও গোসল করতে খুব ভয় লাগে। কখন খুঁটিটা পুকুরের মাঝে ভেঙে পড়ে। এছাড়া ছোট বাচ্চারাও এখানে গোসল করে বলে আতঙ্কে থাকতে হয়।
পুকুর মালিক পক্ষের শামসুজ্জোহা বলেন, পুকুরের আয়তন বৃদ্ধির জন্য পুকুরটি পুঃখনন করা হয়। পাড় কেটে ফেলায় বৈদ্যুতিক খুঁটিটি পুকুরের মাঝে পড়ে যায়। খননের সময় বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানালেও কোনো ব্যবস্হা নেয়নি তারা।
গ্রামবাসী বলছেন, পুকুর পুনঃখননের এক বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্হা নেয়নি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতাকর্মীরা এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন।
নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মানপুর গ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক লাইনটি কোঁচপাড়া হয়ে হাজিনগর ও নিয়ামতপুরের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে।
নিয়ামতপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মেজবাউল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, তারা লিখিতভাবে জানালে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।