মো. নাঈম ইসলাম, শেরপুর
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১০:২১ এএম
শেরপুরে সরকারি পোস্ট অফিস থেকে সঞ্চয়ের ৫৩ হাজার টাকা জাল নোট পান ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ শাহিনা বেগম। এর আগে সম্রাট নামে এক যুবক ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে এক হাজার জাল নোট পান। জেলাটিতে গত এক মাসে অন্তত পাঁচটি এমন ঘটনা ঘটেছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ হতে বিভিন্নভাবে দেশে প্রবেশ করছে এসব জাল নোট। এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাল নোট কীভাবে প্রবেশ করল, অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ ও ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন ষাটোর্ধ্ব নারী শাহিনা বেগম। শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের গনইমমিনাকান্দা গ্রামের বৃদ্ধা শাহিনা গত ১২ অক্টোবর শহরের উত্তরা ব্যাংকে ২লাখ ৬৯ হাজার টাকা জমা দিতে যান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা গুনে নেওয়ার সময় দেখতে পায় মোট টাকার মধ্যে ৫৩টি এক হাজার টাকার নোট জাল।
একইভাবে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুর সোনালী ব্যাংকে নুহূ মিয়া নামে এক ব্যক্তি সরকারি চালানের ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা জমা দিতে যান। ব্যাংক টাকা নেওয়ার সময় ২৫টি এক হাজার টাকার নোট জাল শনাক্ত করে।
নুহূ মিয়া জানান, ওই টাকা তিনি শেরপুর প্রধান ডাকঘর থেকে তুলে ব্যাংকে জমা দিতে যান এবং সেখানে জাল নোট শনাক্ত হয়।
সম্প্রতি শেরপুর পৌর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় সম্রাট নামের এক যুবক ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ১০ হাজার টাকা কার্ড দিয়ে তুলে একটি এক হাজার টাকার জাল নোট পান।
ভুক্তভোগী শাহিনা বেগম বলেন, আমি মানুষের বাড়িতে কাজকাম করে এবং ভিক্ষাবৃত্তি করে টাকাগুলো সঞ্চয় করেছিলাম। সঞ্চয়ের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় টাকাগুলো আমি উত্তোলন করি। কিন্তু তারা আমাকে ৫৩টি এক হাজার টাকার জাল নোট দেয়। আমি এর বিচার চাই।
জাল নোটের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মাহবুর রহমান জানান, বৃদ্ধা শাহিনা বেগমের জমা দেওয়া টাকার মধ্যে এক হাজার টাকার ৫৩টি জাল নোট ছিল। আমরা জাল নোটগুলো শনাক্ত করেছি।
এদিকে বৃদ্ধা শাহীনা বেগমকে যিনি টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন পোস্ট অফিসের পোস্টাল অফিসার মানিক মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এক পার্টি টাকা জমা দেয়, আমরা আরেক পার্টিকে টাকা বুঝিয়ে দিই। শাহিনা বেগমের বিষয়টি পাঁচ দিন আগের ঘটনা। আমি গুনে গ্রাহক শাহিনা বেগমকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিয়েছি। পাঁচ দিন পর এসে তিনি জাল নোটের অভিযোগ তুলছেন।
শেরপুর প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার খন্দকার নূর কুতুবুল আলম বলেন, বিষয়টি জানার পরই আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। সিসি ক্যামেরা দেখে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
শেরপুর ‘সম্মিলিত সচেতন নাগরিক উদ্যোগ’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদ আহমেদ বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের জাল নোটের একটি তথ্যে যখন পুরো দেশ সতর্কতায় রয়েছে তখন সীমান্তবর্তী শেরপুরে জাল নোট নিয়ে সৃস্টি হয়েছে হুলস্থুল অবস্থার। দরিদ্র বৃদ্ধা শাহিনার বিষয়টি নিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে একটা জিনিস বোঝা যায়, তার টাকা উত্তোলনের আগে দুজন গ্রাহক চার লাখ টাকা জমা রাখেন। সেই দুজনের টাকা জাল ছিল কি না, সব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করে রহস্যটি উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।
শেরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা বলেন, সম্প্রতি শেরপুরে জাল টাকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ আইনশৃঙ্খরা রক্ষা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে এবং এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী। এটি নিয়ে আমাদের কাজ চলছে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জাল টাকার প্রচলন রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।