নীলফামারী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ২১:১০ পিএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ২১:১৫ পিএম
নীলফামারীর সৈয়দপুরে জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সেক্রেটারির মধ্যের বিরোধ অবশেষে সংঘর্ষে গড়িয়েছে। এর জেরে সভাপতির ওপর সেক্রেটারির হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সভাপতি রিনুসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে শহরের থানার পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহত অবস্থায় জেলা মহিলা দলের সভাপতি রওনক জাহান রিনু, তার বোন নিলুফা ইয়াসমীন, ছেলের বৌ উম্মে হানী নাইসসহ অন্য আহতদের উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে সেখানে তৃতীয় তলায় মহিলা সার্জারি বিভাগের একটা কেবিনে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলা মহিলা দলের সভাপতি রওনক জাহান ও সাধারণ সম্পাদক রুপার মধ্যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। বিশেষ করে রুপার বিভিন্ন দুর্নীতির প্রতিবাদ করা এবং তা স্থানীয়সহ ঊর্ধ্বতন নেতাদেরকে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক বিরোধ তৈরি হয়।
শনিবার রাতে রওনক জাহান তার বোন নিলুফার ইয়াসমিনকে নিয়ে দলীয় অফিসে আসেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক রুপা আপত্তি তুলেন যে নিলুফার ইয়াসমিন বহিষ্কৃত নেত্রী। ফলে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে রওনক বাসায় ফেরার পথে থানার কাছাকাছি অর্থাৎ রুপার বাসার মোড় এলাকায়ি এলে তার ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
রওনক জাহান রিনু বলেন, রুপার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত ঝামেলা নেই। তবে তার নানা অপকর্মের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদ করেছি। এ কারণে সে অহেতুক আমার প্রতি রুষ্ট। শনিবার রাতে সে পার্টি অফিসে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। পরে আমি বাসায় ফেরার সময় তার লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়।
তার বোন নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুপা সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়েছেন। এতদিন তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজিসহ বেআইনি কাজ করেছেন। আর এখন যিনি বয়স ও পদ ও সম্মানে বড়, নিজ দলের সেই সভাপতির ওপর সন্ত্রাসী মামলা চালিয়েছেন।
রওনক জাহান রিনুর ছেলেবউ উম্মে হানী নাইস বলেন, সেক্রেটারি রুপা বেপরোয়াভাবে বিভিন্ন অন্যায় অপকর্ম করে চলেছে। যার কিছু ঘটনা ফেসবুকে ভাইরালও হয়েছে। তারপরও তিনি নিজে সংশোধন না হয়ে উল্টো ভুল ধরিয়ে দেওয়ায় আমার শাশুড়িরর প্রতি ক্ষুব্ধ। সর্বশেষ আমাদের ওপর হামলা করায় তার সন্ত্রাসী মুখোশ খুলে গেল।
সৈয়দপুর থানার ওসি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, গত রাতে থানার পাশে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এক পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।