নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩৯ পিএম
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সমুদ্র সৈকত থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি একেএম আজমল হুদা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জাহাজমারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক সহসভাপতি মো. শাহেদ উদ্দিন, যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল, বিএনপি কর্মী আব্দুর রহিম ও সমর্থক আফছার উদ্দিন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিত ও বেআইনিভাবে সরকারি সি-বিচ এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বাধা দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। পরবর্তীতে আসামিরা নির্দেশ অমান্য করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। এতে সরকারের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেনের বন্দোবস্ত জমিতে ধান চাষের জন্য বালু সরানোর দায়িত্ব পান বিএনপি কর্মী আব্দুর রহিম। তিনি আনোয়ার হোসেনের ড্রেজার মেশিন ভাড়া নিয়ে বালু উত্তোলন করেন। এ সময় বালু উত্তোলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে ও সরঞ্জাম জব্দ করে।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার জমিতে জোয়ারে বালু এসে জমে। ধান চাষের সুবিধার জন্য বালু সরানোর কাজ দিয়েছিলাম আব্দুর রহিমকে। কেউ বিষয়টি বিকৃতভাবে প্রচার করেছে। নিজের জমি চাষ করতে গেলেও এখন মামলা খেতে হয়। অন্যদিকে, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল বলেন, আমি বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করেছি এবং বিষয়টি ইউএনও স্যারসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। অথচ আমাকেই আসামি করা হয়েছে- এটা অন্যায়।
বিএনপি কর্মী আব্দুর রহিম বলেন, আমি প্রবাস ফেরত শ্রমিক। শাখাওয়াত ভাইয়ের জমির বালু সরাতে শ্রমিকের কাজ করেছি। কিন্তু এখন আমাকে আসামি করা হয়েছে- এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ষড়যন্ত্রমূলক আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এদিকে মামলার বাদী ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে যাদের নাম পেয়েছি, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছি। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের নাম বাদ যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আনোয়ার হোসেন ও আব্দুর রহিম সমুদ্র সৈকতে অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালু তুলেছেন, যা দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
হাতিয়া থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে। এজাহারভুক্ত ৬ জন আসামি ও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।