এইচএসসি
আহমদ মারুফ, সিলেট
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:৪৬ পিএম
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সিলেটে এবার ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। এই শিক্ষাবোর্ডে বিগত ১২ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই এবার ফেল করেছে।
ফল অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে পাসের হার ৫১ দশমিক ৮৬। গত বছর ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯ ভাগ, ২০২৩ সালে ৭১ দশমিক ৬২ ভাগ, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৪০ ভাগ, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৮০ ভাগ, আর ২০২০ সালে শতভাগ, ২০১৯ সালে ৬৭ দশমিক ০৫, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭, ২০১৭ সালে ৭২ ভাগ, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯ ভাগ, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ আর ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬।
এইচএসসিতে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে এবার কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫। গতবছরের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে ৩৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ কমেছে ৫ হাজার ৯৬।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডে এবার ৬৯ হাজার ১৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৫৮৭১ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৬০২ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সেবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৬৯৮ জন।
বিভাগ ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে ১২ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, এর মধ্যে পাস করেছে ৯ হাজার ৭৯২ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৭৯ জন। মানবিক বিভাগে ৪৭ হাজার ১৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২১ হাজার ৪৯৭ জন, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৫৩ জন। বাণিজ্য বিভাগে অংশ নেয় ৯ হাজার ২৭২ জন, এর মধ্যে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮২ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ জন।
সিলেট শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এবারই পুর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে। তাছাড়া ইংরেজীতে ৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করায় ফলাফলে বিপর্যয় হয়েছে। এছাড়া ক্লাসে অনুপস্থিতি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে দক্ষ শিক্ষকের অভাবও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সিলেটে শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো.আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
এসময় মো.আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ইংরেজিতে এবার ৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এছাড়া পরিসংখ্যানেও ২৩ দশমিক ২২ শতাংশ, পদার্থ বিজ্ঞানে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, একাউন্টিংয়ে ৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, উচ্চতর গণিতে ২০ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিষয়ে ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ইতিহাস বিষয়ে ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করায় পাসের হার কমেছে।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া ও দুর্গম হাওরাঞ্চল ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায়ও সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চার জেলা থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৯ হাজার ১৭১ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ৩৫ হাজার ৮৭১ জন।
ভালো ফল সিলেট জেলায়
সিলেট বোর্ডের অধীনে চার জেলায় সিলেট জেলার শিক্ষার্থীরা ভাল ফল করেছে। এ জেলায় পাসের হার ৬০ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে থাকা হবিগঞ্জে ৪৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া সুনামগঞ্জে ৪৭ দশমিক ৩৫ ও মৌলভীবাজারে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।
মেয়েরা এগিয়ে
এইচএসসির ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে ভাল ফল করে অধিপত্য ধরে রেখেছে মেয়েরা। ৪১ হাজার ৪০৭ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২২ হাজার ০১ জন। মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে ২৭ হাজার ৭৬৪ জন ছেলে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৩ হাজার ৮৭০ জন। ছেলেদের পাসের হার ৪৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগের ভালো ফল
সিলেটে বোর্ডে এবার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করেছে। এ বিভাগে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৫০ দশমিক ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৭৯ জন শিক্ষার্থী। ১৫৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে মানবিক বিভাগ থেকে। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ জন।
শতভাগ পাস ৩ কলেজে, কেউ পাশ করেনি ৪ কলেজে
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩২৩টি কলেজের মধ্যে মধ্যে ৩টি কলেজ শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে। আর কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি চারটি প্রতিষ্ঠানে।