বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:১০ পিএম
প্রতিকী ছবি।
বগুড়ার শাজাহানপুরে বিষাক্ত মদপানের ঘটনায় অসুস্থ পঞ্চমজনও মারা গেলেন। এর আগে ওই ঘটনায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম পলাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রবিবার (১২ অক্টোবর) মধ্যরাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রঞ্জু মিয়া (৩০)।
মারা যাওয়া পাঁচজন হলেন- শাজাহানপুরের খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের খোট্টাপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত মাহবুবুর রহমান মণ্ডলের ছেলে কৃষক মিজানুর রহমান মণ্ডল লিটন (৫০), খোট্টাপাড়া সোনারপাড়া গ্রামের সোনার আবদুল হান্নান খোকার ছেলে সিএনজি চালক নাছিদুল ইসলাম (২৭), খোট্টাপাড়া পূর্বপাড়ার সুলতান মাহমুদের ছেলে ট্রাকচালক আবদুল মানিক আকন্দ (৩০), একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে সিএনজি চালক আবদুল্লাহ আল কাফী (৩০) এবং মন্টু মিয়ার ছেলে আনসার সদস্য রঞ্জু মিয়া।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার বেজোড়া মধ্যপাড়া সনাতন ধর্মশালা পূজামণ্ডপের পাশে পাঁচজন একসঙ্গে মদ পান করেন। পরদিন সকাল থেকেই তাদের বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়। সে সময় তারা জানান, পূজার আনন্দে রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করায় অসুস্থ হয়েছেন। স্বজনরা সবাইকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৭ অক্টোবর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমান মণ্ডল লিটন মারা যান। ৯ অক্টোবর রাতে নাছিদুল ইসলাম, ১০ অক্টোবর দুপুরে আবদুল মানিক আকন্দ এবং বিকালে আবদুল্লাহ আল কাফী মারা যান। অবস্থার অবনতি হলে রঞ্জু মিয়াকে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে রবিবার রাতে মারা যান তিনি।
শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষাক্ত মদপানে আক্রান্তদের কিডনি অকেজো হওয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
ওসি শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ পাঁচজনের সবাই মারা গেছেন। এর মধ্যে লিটন ছাড়া বাকি চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আনসার সদস্য রঞ্জু মিয়ার মরদেহও ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মৃতদের স্বজনরা মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।