ময়মনসিংহ অফিস
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ০০:৪৭ এএম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ০১:১৫ এএম
নিহত প্রসূতির স্বজনদের আহাজারি। প্রবা ফটো
ময়মনসিংহ নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ভেনাসে ভুল চিকিৎসায় শান্তা নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার করছে বলেও জানা গেছে। তবে প্রসূতি স্বজনরা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি করেছেন। এদিকে, প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছেন কোতোয়ালী মডেল থানার এক উপ-পরিদর্শক।
রবিবার (১২ অক্টোবর) নগরীর ভাটিকাশর এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে শান্তার প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে ভেনাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে শান্তার সিজার করা হয়। এর পর থেকেই প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রসূতির অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে বেডে ফেলে রাখে। সারারাত ব্যথায় কাতরানোর পর রবিবার ভোরে তড়িঘড়ি করে শান্তাকে সিবিএমসি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুর জন্য হাসপাতালের ভূল চিকিৎসা ও অদক্ষ চিকিৎসককে দায়ি করেছেন স্বজনরা।
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্লিনিক মালিক সমিতি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের নানা ভয় দেখিয়ে বিষয়টি দামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
শান্তার মা শেফালী আক্তার বলেন, আমার সুস্থ মেয়েকে বাসা থেকে নিয়ে আসি। কিন্তু অপারেশনের পর মেয়ের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। একবার নয়, দুইবার তার মেয়েকে অস্ত্রপাচার করা হয়েছে। এজন্য প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেননি। মেয়ের মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি করেছেন তিনি।
প্রসূতির মামা হাফিজুল বলেন, আমরা থানায় মামলা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা মামলা করতে নিষেধ করেন। কারণ মামলা করলে নাকি মরদেহ ময়নাতদন্ত করবে। এই ভয়ে আমরা মামলা দিতে যায়নি। তারা বিষয়টি মিমাংসা করবে বলে আশ্বাস দিয়ে আমাদেরকে মরদেহ দাফন করতে বলেন। আমরা তাদের কথা মত মরদেহ দাফন করেছি। তবে আমরা তাদের মিমাংসায় রাজি হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,ভেনাস হাসাপাতালের ম্যানেজার সোহেল রানার কক্ষ বাইর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি হাসপাতালের কেউ না। যারা কাউন্টারে আছে, তারাই পরিচালনা করে। আমি ওই হাসাপাতালে বেড়াতে গিয়েছিলাম মাত্র।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার কমিউনিটির সভাপতি সাকিব আহমেদ তুহিন বলেন, বিষয়টি অমানবিক। আমরা এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বন্ধের আন্দোলন করে আসছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও প্রান্ত স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনসুর আলম চন্দনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলি। তারা ঘটনার সততার স্বীকার করে মিমাংসা করার কথা আমাকে জানান। বিষয়টি শুনে হতবাগ হয়েছি। তাহলে একটি প্রসূতি মায়ের মৃত্যু নিয়ে মিমাংসা করা যায়। এমন তো আমরা চাইনি। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর সঠিক বিচার।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সজিব কুচ বলেন, আমরা খবর পেয়ে ওই হাসাপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে শুনি বিষয়টি ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে ওই পরিবারের আপোস মিমাংসার আলোচনা চলছে। তারা মামলা করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।