নড়াইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:১৪ পিএম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা সদরের আলামুন্সির মোড় এলাকায় মাছের আড়ত থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০ লক্ষাধিক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে আছেন আড়তের ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা-বিক্রেতারা।
অভিযোগ রয়েছে, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মিলু শরীফ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খাজনার নামে ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন।
‘মায়ের ভান্ডার মৎস্য আড়ত’-এর স্বত্বাধিকারী ফারুক শেখ বলেন, পহেলা বৈশাখের পর থেকে মিলু শরীফ লোক পাঠিয়ে আমাদের কাছে খাজনা দাবি করেন। আমরা বলেছি, ব্যক্তিগত মালিকানার আড়তে কেন খাজনা দেব? কাগজপত্র দেখাতে বললেও কিছু দেখাতে পারেননি।
‘একতা মৎস্য আড়ত’-এর রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস রবিন বলেন, তিন বছর ধরে ব্যবসা করছি, কখনও খাজনা দিতে হয়নি। কিন্তু এবার হুমকি দিয়ে টাকা নেয়া হয়েছে। বিকাশ ও সঞ্জয় টাকা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের কাছে বললে পরিণাম ভালো হবে না বলেও হুমকি দিয়েছেন তারা।
আরেক ব্যবসায়ী সুবল কুমার বিশ্বাস জানান, ব্যক্তিগত জমিতে গড়ে ওঠা এই মাছের আড়তে আমাদের সব সরকারি অনুমোদন ও লাইসেন্স আছে। তবুও জোর করে খাজনা দাবি করছে মিলু শরীফ ও তার লোকজন। না দিলে ব্যবসা ছেড়ে যেতে বলেছে।
স্থানীয় আড়তদারদের অভিযোগ, সাতজন আড়তদারের কাছ থেকে মোট ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। এতে শতাধিক মৎস্যচাষি ও জেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয় এখানে।
তারা বলেন, এই চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ঐতিহ্যবাহী মাছের আড়তটি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মিলু শরীফ বলেন, আমি চাঁদা তুলি নাই, খাজনাও নেইনি। আমার চাচাতো ভাই হাট ইজারা পেয়েছিলেন, তিনিই মারা যাওয়ার আগে টাকা নিয়েছেন। আমি শুধু সমন্বয় করেছি। আমার বিরুদ্ধে কুচক্রীমহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, লোহাগড়া পৌরসভার প্রশাসক মিঠুন মৈত্র বলেন, পৌরসভার আওতায় সাতটি হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গায় ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। আলামুন্সির মোড়ের মাছের আড়ত পৌর ইজারার আওতায় নয়। কেউ টাকা তুললে সেটি অবৈধ।
তিনি আরও বলেন, কে কোথা থেকে টাকা নিচ্ছে—এটি তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। অভিযোগ পেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।