মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১১:০৮ এএম
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে একটানা ৪০ দিন জামায়াতের সঙ্গে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে বাইসাইকেল উপহার পেয়েছেন ২৬ জন শিশু-কিশোর। সাইকেল উপহার পেয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে তারা। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে মিঠামইন জিরো পয়েন্টে মহিষারকান্দি যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ৮ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের একটানা ৪০ দিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করার জন্য প্রত্যেককে একটি করে সাইকেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে মহিষারকান্দি নিজামিয়া মাতলুবুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোবারক হোসাইন আজহারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন হয়বতনগর এ.ইউ. কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিঠামইন উপজেলার সভাপতি মো. নুরুল আমীন, ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং ঢাকা জজ কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাইজুল আমীন আফছারী।
বাইসাইকেল পাওয়া শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে আদায় করেছি। আমাকে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে আমি তাতে খুবই খুশি। আমরা প্রতিদিন জামায়াতে সালাত আদায় করি, এখন বাইসাইকেল পেয়ে আরও উৎসাহিত বোধ করছি। মসজিদে যেতে সুবিধা হবে।
আরেক শিক্ষার্থী আশরাফুল কবির বলেন, আমি সব সময় জামায়াতে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করব। আমার কাছে এটা শুধু উপহার নয়, এটা আমার কাছে অনেক কিছু। এটা আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। নিয়মিত নামাজ পড়লে যে সমাজ আমাদের মূল্যায়ন করে, সেটা আজ আমরা নিজের চোখে দেখলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, গ্রামগঞ্জে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করার জন্য শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করতেই এই সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেয় মিঠামইন জিরো পয়েন্টে মহিষারকান্দি যুব সমাজ। জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
অ্যাডভোকেট ফাইজুল আমীন আফছারী বলেন, আমরা চাই তরুণ প্রজন্ম নামাজের প্রতি আগ্রহী হোক, ইসলামের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হোক। এই বাইসাইকেল কোনো পুরস্কার নয়, বরং নিয়মিত সালাত আদায় করার প্রেরণা। এর মাধ্যমে মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে আদায় করতে মুসল্লিদের উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। এটি অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল তুলে দেন অতিথিরা।