× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিস্তাগর্ভে বিলীন বসতভিটা-ফসলি জমি

আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৪৩ এএম

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১৭ এএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি ও গৃহপালিত পশুপাখি। বিশেষ করে লালচামার, উত্তর লালচামার, ভোরের পাখি, সিঙ্গিজানী, মোশারফের ঘাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলছে এই ভয়াবহ নদীভাঙন। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিনিয়ত বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ, অথচ এখনও নেই কার্যকর কোনো সহায়তা বা টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাঙন রোধে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসনে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য স্থায়ী ব্যবস্থা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, উত্তর লালচামার, ভোরের পাখি, সিঙ্গিজানী, মোশারফের ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, কছিম উদ্দিন, জহুরুল ইসলাম, আ. সামাদ, আবুল হোসেন, রবিউল ইসলাম, শাহ্ কামাল, আমিনুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, আবু জাফর, জয়নাল আবেদীন, মমিনুল ইসলাম, আকাব্বর হোসেন, মোখলেছার রহমান, আব্বাছ আলীসহ অন্তত ৮০টি পরিবারের বাস্তুভিটা, গাছপালা, ঘরবাড়ি, নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানির স্রোতে ভেসে গেছে অনেকের ঘর-দরজা ও গৃহপালিত পশু-পাখি। নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যাও বাড়ছে। সরিয়ে নিতে না পারায় অনেকেরই ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ আসবাবপত্র পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। হুমকিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরাতন বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, বাস্তুভিটা, রাস্তাঘাট। 

নদীভাঙন-কবলিতরা জানান, কোনোমতে সেসব ঘর-দরজা অন্যত্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকেরই কোনো জায়গাজমি না থাকায় পুরাতন বেড়িবাঁধ, অন্যের জায়গায়, কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা অন্য কোনো চরে রাখা হয়েছে। 

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, গত রবিবার থেকে তিস্তা নদীতে পানি বাড়তে থাকে। এতে লালচামার, উত্তর লালচামার, ভোরের পাখি, ভাটী কাপাসিয়া ও সিঙ্গিজানী গ্রামে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি হতে থাকলে বিভিন্ন চরে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়। নদীভাঙন-কবলিতদের জন্য সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা মেলেনি। তবে ইতোমধ্যে দুর্গত পরিবারগুলোর তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই তালিকা কয়েক দিন আগের। সেখানে মাত্র ১৫টি পরিবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে এর সংখ্যা ৩ শতাধিক হবে।’ 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি এবং অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি।

উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, কাপাসিয়া শ্রীপুর, চন্ডিপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে তিস্তার ভাঙনে আমন ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, হরিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মাওলানা ভাসানী সেতুর কাছ থেকে বালাসীঘাট পর্যন্ত দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণপূর্বক দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজকুমার বিশ্বাস বলেন, নদীভাঙন-কবলিত পরিবারগুলোর জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ বিভাগের অধীনে সাময়িকভাবে শুকনো খাবার পৌঁছনোসহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণে ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সভা করেছি। এ জনপদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানকল্পে উচ্চ পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বার্তা পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা