অরুপ রতন ও রফিকুল ইসলাম (সারিয়াকান্দি) বগুড়া
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৩০ এএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১৭ এএম
যমুনার তীরে বসে কাঁদছেন বেলাল আকন্দ। এই যমুনার বুকে তিনি হারিয়েছেন শেষ সম্বল। প্রবা ফটো
‘যমুনা আমার সব নিয়ে গেল। শেষ সম্বল এক বিঘা জমি ছিল, সেটাও কেড় নিল। আমি এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব? আপাতত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অস্থায়ীভাবে ঘর তুলে আছি। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার।’
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের গোদাখালী গ্রামের বাসিন্দা বেলাল আকন্দ নদীর তীরে বসে কেঁদে কেঁদে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন।
পেশায় কৃষক বেলালের একসময় ছিল সাত বিঘা ফসলি জমি, বাড়ি। ধান, পাট, ভুট্টা সবই ফলাতেন তিনি। কিন্তু যমুনা নদীর ভাঙন তার সব কেড়ে নিয়েছে। ছয় বিঘা জমি আগেই নদীতে চলে যায়। অবশিষ্ট এক বিঘা ছিল তার শেষ সম্বল। সেটিও গত সপ্তাহে নদীর পেটে গেছে, এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
বেলালের মতো একই দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন পাইকরতলী গ্রামের কৃষক আবু তাহের। ৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় যমুনা নদী থেকে বেশ দূরে ৭০ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। কেনার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নদীভাঙনে তার অর্ধেক নদীতে চলে গেছে।
আবু তাহের বলেন, নদী থেকে জমি ছিল অনেক দূরে, ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি ভেঙে যাবে। এখন অর্ধেক জমি নেই, বাকিটাও টিকবে কি না জানি না।
গোদাখালী গ্রামের আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে যে জমি থাকে, বিকালে তা নদীতে মিশে যায়। এভাবে একেক দিন একেক পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। এখন অনেকেই বাঁধের পাড়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। এখন কমছে, কিন্তু পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্রোত, আর তাতেই ভয়াবহ আকার নিয়েছে নদীভাঙন। গোদাখালী, পাইকরতলী ও ইছামারা এলাকার শতাধিক একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের দূরত্ব এখন মাত্র ১০০ ফুটেরও কম। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঁধও হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই একই দৃশ্য দেখা যায়। বর্ষায় নদী গিলে খায় জমি আর ঘরবাড়ি, কিন্তু শুকনো মৌসুমে স্থায়ী কাজের উদ্যোগ দেখা যায় না।
এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সারিয়াকান্দি পানি উন্নয়ন উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, ভাঙন কিছুটা কমেছে। আগের মতো তীব্রতা নেই। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ আপাতত নিরাপদে আছে। তবে স্থায়ীভাবে কাজ করা গেলে ভাঙনের প্রভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব।