বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:২৬ পিএম
দাদিকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার নাতনী। প্রবা ফটো
নাটোরের বড়াইগ্রামে মমতাজ বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। স্বর্ণালংকারের জন্য ওই বৃদ্ধার মুখমন্ডল ও মাথায় টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের নাতনী ফাউজিয়া আক্তার (২০) ও তার কথিত স্বামী মিনারুল ইসলামকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ভোরে নাটোর শহরের হরিশপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যার শিকার মমতাজ উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের সরদারপাড়া মহল্লার মৃত শফিউল্লাহ মিয়া ওরফে শফি ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রী। অভিযুক্ত ফাউজিয়া একই মহল্লার মৃত শফিউল্লাহ মিয়ার ছোট ভাই হেদাউল্লাহ মিয়ার ছেলে শাহিনুজ্জামান শাহীনের মেয়ে। আর মিনারুল একই উপজেলার মাঝগাঁও গ্রামের অহিদুল ইসলামের ছেলে।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শামীম হোসেন ও এএসআই রাজিব আলী এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। ফাউজিয়া টর্চলাইট দিয়ে দাদী মমতাজের মুখমন্ডল ও মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে নিহতের হাতে থাকা স্বর্ণের চুড়ি, স্বর্ণের আংটি ও কানের দুল খুলে নিয়ে যায়। হত্যা শেষে ফাউজিয়া তার কথিত স্বামী মিনারুলকে সঙ্গে নিয়ে নাটোর শহরে তার বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিল। পরে সেই স্বর্ণালংকার বিক্রি করে নতুন কাপড়-চোপড় কিনে লাগেজে ভরে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার উদ্দেশ্যে হরিশপুর বাসস্ট্যান্ডে আসে। সেখান থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে মাধ্যমে নাটোর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার (৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বনপাড়া পৌর শহরের সরদারপাড়া নিজ বাড়িতে খুন হন বৃদ্ধা মমতাজ। ফাঁকা বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। দায়িত্বরত প্রহরী এশার নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সুযোগে মমতাজ বেগমকে টর্চলাইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে ও মুখমন্ডল থেঁতলে হত্যা করে স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুফিয়া খাতুন বেবি বাদী হয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের নামে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশ তিনদিন পর হত্যাকারী নাতনী ও নাতনী জামাইকে গ্রেপ্তার করেন।