নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ২০:০৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরকীয়ার জেরে স্বামী মো. নয়ন (৪৮) হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ—স্বামীকে হত্যা করে তার দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে ড্রামে ভরে গুম করেন স্ত্রী ও তার প্রেমিক।
পুলিশ জানায়, নিহত নয়ন পেশায় অটোচালক। তিনি দুটি সংসার চালাতেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা ওরফে সাবরিনাকে (৩৮) নিয়ে ফতুল্লার পিলকুনি এলাকায় বসবাস করতেন। তিন বছর আগে মাদক মামলায় জেলে যাওয়ার সময় থেকেই সাবিনা ও রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল (৪২)-এর মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে নয়ন ফিরে আসার পর স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাবিনার ভাড়া বাসায় রাসেল আসে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা লোহার রড ও ধারালো ছোরা দিয়ে নয়নকে হত্যা করে। পরের দিন রাতে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তারা সহযোগীদের নিয়ে নয়নের দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে। নয়নের দুটি পা কেটে আলাদা করে, দেহের উপরের অংশ একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ফতুল্লার উত্তর শিয়াচর এলাকার মাওয়া সুপার মার্কেটের পাশে ফেলে দেয়। পা দুটি পিলকুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গলির পাশে পলিথিনে মোড়া অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার পর গত ৭ অক্টোবর বিকেলে পুলিশ ড্রামভর্তি লাশ উদ্ধার করে এবং নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার)-এর নির্দেশে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে নয়নের স্ত্রী সাবিনা, পরকীয়া প্রেমিক রাসেল, সহযোগী চয়ন, জুয়েল, নোমান ওরফে মানিক, এবং সাবিনার পূর্বের সংসারের দুই মেয়ে সুমাইয়া (২০) ও সানজিদা ওরফে সাজু (১৮)-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচ্ছিন্ন অঙ্গ ও আলামত উদ্ধার করা হয়। নয়নের বাবা মো. আব্দুল সালামের অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা (৩০২) ও আলামত গুম (২০১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুর মোহসিন সাতা সাত আসামির মধ্যে পাঁচজনকে চার দিন করে এবং দুই নারী আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, আদালত নয়নের স্ত্রী সাবরিনা, পরকীয়া প্রেমিক রাসেল, সহযোগী চয়ন, জুয়েল ও রোমান ওরফে মানিকের চারদিন এবং সাবরিনার দুই মেয়ে সুমাইয়া ও সানজিদার দুইদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।