× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিজয়ের ৫১ বছরেও কিশোরগঞ্জে অরক্ষিত গণকবর ও বধ্যভূমি

মধ্যাঞ্চলীয় ব্যুরো

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৩৭ এএম

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১০:২৬ এএম

কাটাবাড়িয়া গ্রামের বড়দিঘি এবং ভাস্করখিলা বিলের এই স্থানে পাকিস্তানি হানাদারদের গুলিতে শহীদদের কবর দেওয়া হয়। এই গণকবরটি আজো চিহ্নিত করে সংরক্ষণসহ ফলক স্থাপন করা হয়নি। ছবি : প্রবা

কাটাবাড়িয়া গ্রামের বড়দিঘি এবং ভাস্করখিলা বিলের এই স্থানে পাকিস্তানি হানাদারদের গুলিতে শহীদদের কবর দেওয়া হয়। এই গণকবরটি আজো চিহ্নিত করে সংরক্ষণসহ ফলক স্থাপন করা হয়নি। ছবি : প্রবা

বিজয়ের ৫১ বছরেও সংরক্ষণ হয়নি কিশোরগঞ্জ জেলার তিনটি বধ্যভূমি ও একটি অরক্ষিত গণকবর। সরকারিভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা থাকলেও আজও কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা স্মৃতিফলক নিমার্ণের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও কোনো ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা সদরের এ রকম তিনটি বধ্যভূমি হচ্ছে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাশের মনিপুরঘাট বধ্যভূমি, কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পুলিশ লাইন সংলগ্ন বড়পুল বধ্যভূমি এবং মাইজখাপন ইউনিয়নের প্রাচীনতম জনপদ নীলগঞ্জ বাজার ব্রিজ বধ্যভূমি। অন্যদিকে এ জেলায় মুক্তিযুদ্ধে মাত্র একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। এটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের কাটাবাড়িয়া বড় দিঘিরপাড় গ্রামে অবস্থিত।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দখলদার পাকিস্তানি সেনারা তিন দফায় বড়পুল বধ্যভূমিতে অন্তত ৩৫ জন সাধারণ নাগরিককে হত্যা করে। বড়পুলের নিচ দিয়ে প্রবাহিত ধনিরাজ খালের প্রবল পানির তোড়ে গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত অনেক লাশ ভেসে ভেসে বড় দিঘিরপাড়ের পূর্বদিকে ভাস্করখিলা বিলের কাছে আটকে যায়। সেখানে লাশ পঁচে-গলে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিচয়হীন কমপক্ষে ১০/১২টি লাশ বড়দিঘির পূর্ব পাড়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেন। সেই থেকে উক্তি ভূমিটি স্বীকৃতিহীন গণকবর হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্টমহল গত ৫১ বছরেও এই গণকরবটি চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করার কোনো উদ্যোগে নেয়নি। 

কাটাবাড়িয়ার বড়দিঘিরপাড় গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আজিজুর রহমান আজু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় ধনিরাজ খাল বেয়ে বড়পুল থেকে গুলিবিদ্ধ লাশগুলো বড়দিঘির দক্ষিণ পাশে ভাস্করখিলা বিলের কাছে আটকে যায়। আমার মামা বাদশার বাপ, কিতাব আলী ও অন্য মুরুব্বীরা সেখান থেকে অর্ধগলিত লাশগুলো উদ্ধার করে বড়দিঘির পূর্ব পাড়ে মাটিচাপা দেন। সময়ের বিবর্তনে সেই স্মৃতি অনেকেই ভুলে গেছেন। ফলে এখানে কোনো গণকবর আছে সেটি আজকের প্রজন্ম জানেই না। সরকারিভাবে এই গণকবরটি সংরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন।’

কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়কের আলোচিত বড়পুল। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসররা কমপক্ষে অর্ধশত মানুষকে এখানে গুলি করে হত্যা করে। এই বধ্যভূমিটি এখনো চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা হয়নি। ছবি : প্রবা

এই গণকবরটির আবিস্কারক মুক্তিযুদ্ধের গবেষক জাহাঙ্গীর আলম জাহান বলেন, ‘সরকারিভাবে মুক্তিযুদ্ধের গণকবর চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করার নির্দেশ রয়েছে। আমি সর্বপ্রথম কাটাবাড়িয়া বড় দিঘিরপাড়ের গণকবরটি তথ্য উদ্ধার করি। সংরক্ষণের অভাবে এখানে কোনো গণকবর ছিল তা আজ বোঝার উপায় নেই। এখনও সময় ফুরিয়ে যায়নি। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য জানানোর স্বার্থে এই গণকবরসহ সব বধ্যভূমি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করতে ত্বরিৎ উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’ 

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদউল্লাহ বলেন, আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার ইতিহাস তুলে ধরার জন্য গণকবর ও বধ্যভূমিগুলোকে চিহ্নিত, সংরক্ষণসহ স্মৃতিফলক তৈরি করা একান্ত জরুরী। দীর্ঘ ৫১ বছর এসব বিষয়ে কথা বলতে হবে-তা ভেবে দুঃখ পেতে হয়। 

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, সরেজমিনে বধ্যভূমি এবং গণকবর পরিদর্শন করে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা