× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভিজিএফ চাল বিতরণের অনিয়ম, জেলেদের ক্ষোভ

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:৪৫ পিএম

ভিজিএফ চাল বিতরণের অনিয়ম, জেলেদের ক্ষোভ

ভৈরবে ‘মা ইলিশ ধরব না, দেশের ক্ষতি করব না’ এই স্লোগানে মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভৈরব পৌরসভায় সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে এ চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় চাল বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পেশাজীবী বহু জেলে। ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলেরা অভিযোগের সঙ্গে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতিজন দরিদ্র জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এ চাল বিতরণে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং স্বজনপ্রীতি হয়েছে। প্রকৃত দরিদ্র জেলেরা নামের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। যারা জেলে নন ও স্বাবলম্বী পরিবার তাদের নাম তালিকায় উঠে এসেছে। এমনকি অনেকের ছেলে ইতালি, সৌদি আরব, কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে। এছাড়া, অনেকে আবার অন্য পেশায়ও নিয়োজিত হয়েছেন তাদের নামও এই তালিকায় রয়েছে। তবুও তারা পাচ্ছে ভিজিএফের চাল। এছাড়া, জেলেরা আরও অভিযোগ করে বলেন, তালিকায় জেলেদের নাম আছে, কিন্তু চালের কার্ড দেওয়ার সময় কোনো প্রকার যাচাই-বাচাই না করেই কর্মকর্তার মনগড়া জেলেদের নাম দিয়েছেন। এতে করে সরকার নির্ধারিত সহায়তা থেকে প্রকৃত ও হতদরিদ্র জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান তারা।

জেলে ফারুক মিয়া বলেন, আমি সারা বছর মাছ ধরে সংসার চালায়। এখন মাছ ধরা বন্ধ আমি চলব কীভাবে। সরকার থেকে বলেছে, চাল দ

দেবে। কিন্তু এখন আমাকে বলতেছে চাল দেবে না। তারা মানুষ দেখে দেখে নামের তালিকা করেছে। অন্য জেলেরা যদি চাল পায় তাহলে আমারও তো চাল দরকার। আমিও তো জেলে তাহলে আমাকে কেন চাল দেবে না।

আরেক জেলে হক মিয়া বলেন, আমি ছোট কাল থেকে এই পেশায় আছি। আমার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস নদী থেকে মাছ ধরেই। তবুও আমি কেন কোনো সহায়তা পাব না। ‘আজ সরকার চাল দিতাছে সবাই পায়তাছে কিন্তু আমার জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও নামের তালিকায় নাম না থাকায় চাল দেই নাই।’

এছাড়া আরেক জেলে বাদল মিয়া বলেন, অনেক জেলেদের ছেলেরা বিভিন্ন দেশে ভালো পজিশনে আছে। তাদের নাম তালিকায় রয়েছে। অনেকে আজ চাল নিতেও এসেছে। কিন্তু আমরা যারা প্রকৃত জেলে আমরা কেন চাল পাব না, যদি তারা চাল পায়!

এ বিষয়ে ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৬ জন জেলের মধ্যে আমরা যাচাই-বাচাই করে ৩০ জন জেলের নামের তালিকা করেছি। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর)  দুপুরে চাল বিতরণকালে আরও ৫ জন জেলেকে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এ দিকে পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৫ জন জেলের তালিকা করার কথা থাকলেও এর মধ্যে সোমবার (৬ অক্টোবর) ৩০ জন জেলের নামের তালিকা করেন তিনি। বাকি ৫ জেলের নামের তালিকা কেন বাদ রাখা হয় এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, যেদিন নামের তালিকা করা হয় ওইদিন অনেকে জেলে কার্ড নিয়ে এলেও তাদের মধ্যে অনেককে দেখে প্রকৃত দরিদ্র জেলে মনে হয়নি। যার কারণে ৩৫ জনের তালিকা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে পৌরসভায় চাল বিতরণের সময় অনেক জেলে চাল নিতে আসে। তাদের মধ্য থেকে প্রকৃত জেলে দেখে বাকি ৫ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এদিকে চাল বিতরণের সময় ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে তালিকায় জেলের নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে স্থানীয় জেলেদের তর্কবিতর্ক হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক বলেন, সারাদেশব্যাপী মা ইলিশ রক্ষাতে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন, আহরণ সকল কিছু নিষিদ্ধ। এই উপজেলায় যে সকল জেলেরা ইলিশ মাছ আহরণের সঙ্গে জড়িত তাদের সরকার মাসিক ভিত্তিতে ভৈরব পৌরসভার ভেতরে জেলে কার্ড অনুযায়ী তালিকার ২২০ জন জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। যেন তারা ইলিশ মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকে। কিন্তু তারা নদীতে অন্যান্য মাছও আহরণ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা