প্রবারণা পূর্ণিমা
আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ১০:২২ এএম
'মার্গ দুঃখ নিরোধ সমুদয়' বৌদ্ধ ধর্মমতে চারটি আর্য সত্যের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ বোঝাতে এই শব্দগুলো ব্যবহার হয়, যেখানে প্রথম তিনটি সত্যের পর চতুর্থ সত্যটি 'দুঃখ নিরোধ মার্গ' নামে পরিচিত। যেখানে বাসনা বর্জনের মধ্য দিয়ে দুঃখ মুক্তির বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এমনই প্রার্থনা ও বার্তাভরা ফানুস উড়িয়ে চট্টগ্রামে প্রতিবারের মতো এবারও পালিত হলো প্রবারণা পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় প্রধান এই উৎসব বাংলাদেশে পালিত হয় মহাসমারোহে। আতশবাজির ফোয়ারা, আগুনের খেলা, ঢোলের তালে তালে তরুণদের নাচ আর হাজারো ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে এই উৎসবে দেশের সব ধর্ম-বর্ণ, মতের মানুষদের এক মহামিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের নন্দনকানন এলাকা।
সম্মিলিত প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার বৌদ্ধমন্দির-কেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এই উৎসবের উদ্বোধন করেন।
চট্টগ্রামের সংগঠন মহাবর্গের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব বড়য়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, 'বুদ্ধ পূর্ণিমার পর এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে এই উৎসব এখানে খুব আয়োজন করে পালন করা হয়। এক মাস ধরে আমরা ১৪টি ফানুস বানিয়েছি। জীবের মুক্তি কামনায় সেগুলো উড়িয়ে দেওয়া হবে। মূলত আত্মশুদ্ধি লাভের পর বুদ্ধের চুল উড়ে যাওয়ার বিশ্বাস থেকেই ফানুস ওড়ানোর এই উৎসবের শুরু।'
বৌদ্ধ ধর্মের বিশ্বাসে প্রবারণা হলো, আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ 'বুদ্ধত্ব' লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস সমাপনীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়। এই তিন মাস তারা উপবাস থাকেন। এ সময়টাকে বলা হয় বর্ষাবাস। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাস দেশের প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে কঠিন চীবর দান উৎসব।