কেরাণীগঞ্জ ( ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:০৪ পিএম
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক প্রবাসীকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের নয়ানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই প্রবাসীর স্ত্রী ঝুমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নিহত প্রবাসীর নাম জুয়েল (৩৫)। তিনি উপজেলার নয়ানগর গ্রামের আজহারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা জুয়েল সম্প্রতি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকে স্ত্রী ঝুমা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার সন্ধ্যায় ঝুমা বেগম ও অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে জুয়েলকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন।
পরে হত্যার আলামত নষ্ট করতে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবেশীরা ধোঁয়া ও আগুন দেখে চিৎকার দিলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে এবং নবাবগঞ্জ থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ও জয়েলের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঝুমা বেগমকে গ্রে্প্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঝুমা বেগম উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের পুরান তুইতাল গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। প্রায় আট বছর আগে তার সঙ্গে জুয়েলের বিয়ে হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।