তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:১৬ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:১৭ পিএম
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে ফ্লাড বাইপাস, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। নদী এলাকার সড়কগুলোর উপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি বইছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও রবিবার রাতে পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপরে ওঠে ভাটির লোকালয়ে প্রবেশে বহু এলাকা প্লাবিত করে। তবে বর্তমানে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ৩ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের মানুষজন নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। অনেকে গরু-ছাগল নিয়ে উঁচু জায়গা বা স্পার বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। নিচু এলাকায় বাড়িঘরে বুকসমান পানিতে ডুবে আছে, ফলে ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে। কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাটের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যেকোনো সময় সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া নদীর তীরবর্তী অনেক স্থাপনা ও বসতবাড়িও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বন্যায় আমন ধানসহ জমিতে থাকা বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
তিস্তা এলাকার বাসিন্দা শহীদ হোসেন বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে পানি ঢুকতে শুরু করে। রাতেই বাড়িতে বুক সমান পানি উঠে। গরু-ছাগল নিয়ে কোনোরকমে উঁচু রাস্তায় অবস্থান নিয়েছি। জমিতে আমন ধান আবাদ করেছিলাম সেগুলো সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তীরবর্তী এলাকার মানুষকে অগ্রিম সতর্ক করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, চলমান বন্যায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পাঁচ উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।