আশরাফুল ইসলাম কহিনুর, হবিগঞ্জ
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৪৯ এএম
হবিগঞ্জের বিথঙ্গল আখড়া পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন ৫০০ বছরের পুরনো এই আখড়াটি দেখতে। আখড়াটি বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান। আখড়ায় রয়েছে ২৫ মণ ওজনের শ্বেতপাথরের চৌকি (খাট), পিতলের তৈরি সিংহাসন, প্রাচীন কারুকার্য-সমৃদ্ধ রথ, রৌপ্য পাখি ও সোনার মুকুট। ১২০ জন বৈষ্ণবের জন্য রয়েছে ১২০টি কক্ষ।
ষোড়শ শতাব্দীর দিকে নির্মিত এই আখড়া নির্মাণ করেন রামকৃষ্ণ গোস্বামী। বর্তমানে এটি মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত পর্যটকদের জন্য একটি অনন্য দর্শনীয় স্থান। হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা থেকে প্রায় ১২ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে বিথঙ্গল আখড়া। এই আখড়ার প্রতিষ্ঠাতা রামকৃষ্ণ গোস্বামী উপমহাদেশের বিভিন্ন তীর্থস্থান সফর শেষে ষোড়শ শতাব্দীতে বিথঙ্গল আখড়াটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলা ১০৫৯ সনে দেহত্যাগ করেন।
রামকৃষ্ণ গোস্বামীর সমাধিস্থলের ওপর একটি মঠ রয়েছে। মঠের সামনে একটি নাটমন্দির এবং পূর্বপাশে একটি ভান্ডার ঘর এবং দক্ষিণে একটি ভোগমন্দির রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি বিশাল পুরাতন ইমারত রয়েছে।
আখড়ার বর্তমান পরিচালক সুকুমার দাস মোহন্ত গোস্বামী। তিনি দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে এই আখড়া দেখভাল করে আসছেন। পাশাপাশি একজন সাধক হিসেবে নানা সমস্যায় জর্জরিত; এমনকি অসুখ-বিসুখে ধরা লোকজনদের আরোগ্য সেবায়ও কাজ করছেন।
সুকুমার দাস মোহন্ত গোস্বামী বলেন, প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে ত্রিপুরার রাজা উচ্চবানন্দ মাণিক্য বাহাদুর প্রাচীন নির্মাণ কৌশল-সমৃদ্ধ দুটি ভবন নির্মাণ করে দেন। মাণিক্য বাহাদুর ও তার স্ত্রী ওই আখড়ায় প্রায়ই এসে অবস্থান করে ধর্মকর্ম করতেন। কিন্তু এ ভবনগুলো সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে আজ।
বর্তমানে আখড়ার প্রতিষ্ঠাতা রামকৃষ্ণ গোস্বামীর সমাধিস্থলে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর একটি ভবন তৈরি করে দিয়েছেন একজন ভক্ত। এ আখড়া ঘিরে কার্তিক মাসের শেষদিন ভোলাসংক্রান্তি উপলক্ষে কীর্তন হয়। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোল পূর্ণিমার ৫ দিন পর পঞ্চম দোল উৎসব উদযাপিত হয়। চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে ভেড়া মোহনা নদীর ঘাটে ভক্তগণ পুণ্যস্নান করেন এবং বারুণী মেলা বসে। আষাঢ় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি উৎসবে ৫ থেকে ১০ হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে।
সুকুমার দাস মোহন্ত গোস্বামী জানান, আখড়ার নিজস্ব ৪০ একর জমির উৎপাদিত ফসল ও ভক্তদের দানে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ হয়।
কীভাবে যাবেন : হবিগঞ্জ শহরতলির কালারডুবা নৌকাঘাট। এখান থেকে নৌকাযোগে রওনা দিয়ে আঁকা-বাকা পথে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ আর জলরাশি দেখতে দেখতে পৌঁছে যাবেন বিথঙ্গল আখড়ায়। শুকনো মৌসুমে হবিগঞ্জ-আজমিরীগঞ্জ সড়কে শিবপাশা হয়ে মাইক্রোবাস বা জিপগাড়ি দিয়ে যাওয়া যায়। তবে থাকা-খাওয়ার খুব ভালো ব্যবস্থা সেখানে নেই।