বিশ্ব শিক্ষক দিবস
সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৪০ পিএম
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এনআরবিসি ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ব্যতিক্রমী আয়োজনে অতিথিরা। প্রবা ফটো
বিশ্ব শিক্ষক দিবস ৫ অক্টোবর। বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার আবহে এ দিনটি পালিত হয়। কেননা শিক্ষকরা শুধু জ্ঞানই দেন না, বরং গড়ে তোলেন একটি প্রজন্ম, একটি জাতি। পরম শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকদের এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ শহরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি কিশোরগঞ্জ শাখা।
শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে এদিনে ব্যাংকটির উদ্যোগে খোলা হয় ৫০ জন নতুন শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাব। জমা হয় ৫ কোটি টাকার নতুন আমানত।
অনুষ্ঠানে উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রথিতযশা ৫ শিক্ষক- মাসুদুল ইসলাম, কাজি করিম উল্লাহ, বদরুল হুদা সোহেল, আবু বক্কর সিদ্দিক ও নাসিমা পারভীন বেলী।
আগত শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা ছিল বিশেষ উপহার চকলেট ও কলম। তবে এর চেয়েও মূল্যবান উপহার ছিলো শিক্ষকদের সচেতনতামূলক বক্তব্য। শিক্ষকরা শুধু ব্যাংক হিসাব খোলায় উৎসাহ দেননি, বরং দিয়েছেন জীবনঘনিষ্ঠ পরামর্শও।
কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বায়োলজি বিভাগের শিক্ষক মাসুদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সঠিক আর্থিক সচেতনতা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিরাপদ করে।
গুরুদয়াল কলেজের ইতিহাসের বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর কাজি করিম উল্লাহ নাদিম বলেন, পৃথিবীতে সবকিছুর পিছনে অর্থের যোগসাজশ আছে। অর্থকে জানতে হবে, বুঝতে হবে। অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হতে হবে।
কিশোরগঞ্জের ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান বদরুল হুদা সোহেল বলেন, প্রবাদ আছে সকাল বেলার মুঠি, সারাবেলার খুটি। ছোট ছোট সঞ্চয় থেকেই বড় স্বপ্ন পূরণ হয়, তাই প্রতিদিন সামান্য করে হলেও সঞ্চয় করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরিফা ইসলাম রিচি পড়াশুনা করছেন কিশোরগঞ্জ সরকারি পৌর মহিলা কলেজে আর আশরাফুল ইসলাম ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে। সাত বন্ধু মিলে ব্যাংকে এসেছেন নতুন হিসাব খুলতে।
তাদের কথায় ছিল আগামী জয়ের স্বপ্ন। ব্যাংকের ট্রান্কজেকশনে ডিজিটাইলেজশন তাদেরকে বিমোহিত করেছে। তাদের মতে, একটা সময় ছিল, আমরা আমাদের টাকা বইয়ের ভাজে জমাতাম। নতুন হিসাব খুলে আমরা এখন ব্যাংকে টাকা জমা রাখবো এবং অ্যাপসের মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোনো লেনদেন করতে পারবো। এ এক অন্যরকম অনুভূতি।
এদিন শিক্ষার্থীরা যেমন পেয়েছে আর্থিক শিক্ষার প্রথম দীক্ষা, তেমনি শিক্ষকরা পেয়েছেন তাদের অবদানের স্বীকৃতি ও সম্মান।
এনআরবিসি ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার প্রধান রকিবুল হাসান জানান, এই পদক্ষেপ কেবল কিছু নতুন হিসাব খোলা নয়, এটি হলো শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমেই যে বৃহৎ স্বপ্ন পূরণ সম্ভব, সেই বার্তাটিই ছড়িয়ে দিতে চায় ব্যাংকটি। শিক্ষকের সম্মান ও শিক্ষার্থীর সযত্ন আর্থিক পথচলার এই যুগলবন্দী নিঃসন্দেহে সমাজে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে এনআরবিসি ব্যাংক পরিণত হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মিলনমেলায়।