প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ২০:২৯ পিএম
উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। ফলে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করেছে। তীরবর্তী এলাকায় তৈরি হয়েছে নদীভাঙনের ঝুঁকি। অনেকে রাতে পানি বাড়ার আশঙ্কায় বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, রবিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বিকেল ৩টায় এ পয়েন্টে পানি ১৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভারতের সিকিমসহ দেশের অভ্যন্তরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। যা ৬ অক্টেবর পর্যন্ত অব্যহত থাকবে। এতে করে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
৯ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৭০ সেন্টিমিটার
রবিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে বেলা ৩টায় সেই পানি বেড়ে বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ৭০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, উজান ও দেশের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নভাবে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ১২ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তার উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পানি দ্রুত বাড়ছে। রবিবার রাতেও পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে চলতি সপ্তাহে গাইবান্ধা অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা নেই। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও পাউবো জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে তিস্তা তীরবর্তী জনপদগুলোতে পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে।
যমুনায় পানি কমছে
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিনিয়া আক্তার জানান, যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ মিটার। গত ৪ অক্টোবর সকাল ৯টায় নদীর পানি ছিল ১৩ দশমিক ৮৪ মিটার। ৫ অক্টোবর বিকেল ৩টার সর্বশেষ তথ্যানুসারে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৭২ মিটারে। অর্থাৎ এখন বিপদসীমার ২ দশমিক ৫৩ মিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, রবিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পদ্মার পানি নামছে
রাজশাহীতে পদ্মার পানি নামা অব্যাহত রয়েছে। গত শনিবার পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৫ দশমিক ১৭ মিটার। রবিবার বিকাল ৩টায় পরিমাপ করা হয় ১৫ দশমিক ১৩ মিটার।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক জানান, রাজশাহীর পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮.৫ মিটার। চলতি বছর ১২ আগস্ট সকাল ৯ টায় পদ্মার পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা পরিমাপ করা হয় ১৭.৪৩ মিটার। আগস্ট মাসের পর থেকে পদ্মার পানি নামতে শুরু করে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রতিনিয়ত পদ্মার পানি লেয়ার নিচে নামছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য পাঠিয়েছেন রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বগুড়া ও রাজশাহী প্রতিবেদক।