দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪৫ এএম
পান্ডারখাল বাঁধে ইট, বালু আর পাথরের স্তুপ। প্রবা ফটো
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ডেখার হাওরসহ আশপাশের ছোট বড় হাওরের ফসল রক্ষায় নির্মাণ করা হয় শ্যামলবাজার পান্ডারখাল বাঁধ। কর্মব্যস্ত দিন পার করে জেলা শহর সুনামগঞ্জ থেকে শুরু করে দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অনেকেই আসেন এই বাঁধে সময় কাটানোর জন্য। বাঁধের দুই পাশে সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ তারই মাঝে বয়ে চলা দুই ধারে নদী। প্রথম দেখাতেই মনে হয় যেন এটা বাঁধ নয়, দ্বীপ।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক বছর থেকে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাঁধ দখল করে এবং দুই পাশে বালু ইট পাথরের স্তুপ করে অবাধে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ফলে বাঁধটি হারিয়েছে তার নিজস্ব সৌন্দর্য, মরে যাচ্ছে দুই পাশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৫০ বছরের পুরনো বাঁধটি টেকসই করতে লাগানো হয়েছিল বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। তবে সেখানে ইট বালু পাথরের স্তুপ করার ফলে মরে যাচ্ছে সেখানকার গাছ-পালা। এতে বাঁধের দুই পাশ ধ্বসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে ডেখার হাওরসহ আশপাশের ছোট বড় হাওরের ফসল রক্ষায় নির্মাণ করা হয় বাঁধটি। কিন্তু বাঁধের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে ইট,বালু, পাথর। ফলে বর্ষার মৌসুম এলে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় মামুন মুন্সি বলেন, এর প্রতিকার চেয়ে অনেকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি, মাঝেমধ্যে জরিমানা হয় কিন্তু কিছু দিন পরেই আগের মতো চলতে থাকে তাদের ব্যাবসা।
পথচারী নুরুল আমিন বলেন, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা থেকে জেলা শহর সুনামগঞ্জে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। ফসল রক্ষা ও সুনামগঞ্জে সহজে যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল বাঁধটি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীদের কারণে আজ বাঁধটি হুমকির মুখে। যখন তখন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
দোহালিয়া ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে কলেজে যাওয়া আসা করি। মাঝেমধ্যে বাঁধের ওপরে বসে বন্ধুদের নিয়ে গল্প করি, ছবি তুলি। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থায় বাঁধটি নেই। চারদিকে বালু পাথরের স্তুপ, বসার কোনও জায়গা নেই। পান্ডারখাল বাঁধ থেকে অবৈধভাবে ইট, বালু-পাথরের ব্যবসা বন্ধ করে বাঁধের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।