কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১১:০৭ এএম
তুমব্রু সীমান্তে টহল দিচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা প্রবা ফাইল ফটো
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে ফের ভেসে এলো গোলাগুলির শব্দ। এতে স্থানীয়রা আতংকে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে নিয়ন্ত্রণে থাকা মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে আরসা ও আরএসও’র মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের থাকার কথা বলছেন বিজিবির সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার রাত আটটার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রুর ৩৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমার অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটেছে। রাত ১০টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিজিবির কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ১ অক্টোবর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তরের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নিতে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরসা ও আরএসও’র মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসতে শুনেছেন তারা। এতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা আতংকে রয়েছেন।
তুমব্রু এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মনির আহমেদ জানান, ‘রাত আটটার দিকে মিয়ানমার অভ্যন্তরে হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রথমে মনে হয়েছিল আতশবাজি ফাটানো হচ্ছে, পরে বুঝতে পারি গোলাগুলির শব্দ। প্রায় আধা ঘণ্টা থেমে থেমে গুলি চলেছে।’
তিনি জানান, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে লড়াইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। এখন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিতে তাদের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করেছে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরসা ও আরএসও। শনিবার রাতেও তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে গোলাগুলির প্রচণ্ড শব্দ ভেসে এসেছে।
এসময় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষজন আতঙ্কে ঘরের ভেতর অবস্থান নেয়। কেউ কেউ সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যায়।
এদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন, বিজিবির কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নেব অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের ভেতরে আরাকান আর্মি, আরসা ও আরএসও’র মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। ঘটনাটি আমাদের সীমান্তের ভেতরে নয়, সীমান্তের তিন থেকে চারশত মিটার দুরত্বে মিয়ানমার অভ্যন্তরে।’
তবে বিজিবি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান, লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম।