মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:২৩ পিএম
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:৩২ পিএম
দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় চালু হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এর আওতায় সুনামগঞ্জের ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুষ্টিকর খাবার পাবে।
কিন্তু নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলা এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বাংলাদেশ দারিদ্র্য মানচিত্র–২০২২ অনুযায়ী মধ্যনগরের দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক কম থাকায় উপজেলাটি বাদ পড়ে যায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সালে জরিপের সময় মধ্যনগর আলাদা উপজেলা ছিল না। ধর্মপাশার সঙ্গে একীভূত তথ্যের কারণে প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয়নি। তাদের মতে, বাস্তবে মধ্যনগরের দারিদ্র্য পরিস্থিতি জেলার অন্য যেকোনো উপজেলার চেয়ে খারাপ।
উপজেলায় ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ফিডিং কর্মসূচি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ২০-২৫ শতাংশ কমে গেছে। অনেকে শুধু বিস্কুটের জন্য নিয়মিত স্কুলে যেত, এখন তা না পেয়ে অনীহা দেখাচ্ছে।
কাকরহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমূলগনী তালুকদার বলেন, ‘ যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুদের স্কুলমুখী করা কঠিন। ফিডিং কর্মসূচি থাকলে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে আসতে আগ্রহী হতো।’
মধ্যনগরের ইউএনও উজ্জ্বল রায় জানান, মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মধ্যনগর শর্তের বাইরে থাকায় আপাতত এই কর্মসূচি পাচ্ছে না। তবে, স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।