দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৫১ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৫৫ পিএম
হাতে চুড়ি, কপালে টিপ, রঙিন শাড়িতে অপরূপ সাজে দূর-দূরান্ত থেকে মেলায় হাজির হয়েছেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তরুণীরা। সাজগোজ করে এসেছেন তরুণরাও। পরস্পরের পছন্দ হলেই বেজে ওঠে সানাইয়ের সুর। প্রথমে আলাপচারিতা, তারপর অভিভাবকদের জানানো। শেষে ধুমধাম করে শুরু হয় বিয়ের আয়োজন।
এমন চিত্র দেখা গেছে দিনাজপুরে বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের জীবনসঙ্গী খোঁজার বউ মেলায়। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের মাঠে দিনব্যাপী এই মেলাটি পরিনত হয় মিলন মেলায়। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের জীবনসঙ্গী খোঁজার এই মেলা হয়ে আসছে প্রায় ২০০ বছর ধরে। প্রতি বছর দুর্গাপূজার দশমীর পর দিন এ মেলার আয়োজন করা হয়। সময়ের পরিবর্তনে এখন বউ মেলাটি মিলন মেলা নামে পরিচিত হচ্ছে।
দিনাজপুর ছাড়াও পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার অনেক মানুষ মেলায় আসেন। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি সনাতন ও ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষও উপস্থিত হয় এ মেলায়।
ঐতিহ্যবাহী বউ মেলা উপলক্ষে শুক্রবার বিকাল ৪ টায় ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ , ১০নং মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং বীরগঞ্জ আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির যৌথ আয়োজনে বিদ্যালয়ের মাঠে ‘মিলন মেলা’ নতুন নামে আদিবাসীদের একক নৃত্য পরিবেশনসহ নাচ-গানের আসর ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির নেতা জোসেফ হেমরমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মনজুরুল ইসলাম মনজু। বিষেশ অতিথির বক্তব্য রাখেন নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান চৌধুরী শাহিন, কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক রবি মার্ডি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যান ফ্রন্টের আহব্বায়ক মনোজ কুমার রায় প্রমুখ।
আনিসুর রহমান জানান, আগে মেলায় তরুণ-তরুণীরা পছন্দের মানুষ খুঁজে পেলে পরিবারের কাছে জানাতেন। পরের বছর মেলায় তাঁদের নাম-পরিচয় তুলে ধরে বিয়ের আয়োজন করা হতো। এখনো অনেকেই মেলায় ছেলে-মেয়ের জীবনসঙ্গী খুঁজে পেলে হয়তো বিয়ে দেন। তবে আগের মতো বিয়ে-শাদির ব্যাপারগুলো এখন আর নেই। এরপরও ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন আয়োজকেরা।
জোসেফ হেমরম জানান, মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। বউ মেলা উপলক্ষে বিদ্যালয়ের মাঠে নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেন বিক্রেতারা। বিদ্যালয়ের মাঠসহ পুরো গোলাপগঞ্জ বাজার এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।