চাটমোহর (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ২১:১৪ পিএম
পাবনার চাটমোহরে ঈদগাহ মাঠের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ভাংচুর করা হয়েছে ঘরবাড়ি। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলঙ্কা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে।
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত আহতরা হলেনÑ উপজেলার বন্যাগাড়ী গ্রামের আজিম উদ্দিন, সুরমান আলী, আরমান আলী, আবুল হোসেন, রাশেদ হোসেন, আফজাল প্রামানিক, সেলিম হোসেন ও সাব্বির হোসেন। অন্যদের মধ্যে কয়েকজনকে আটঘরিয়া ও পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের নাম পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় একটি ঈদগাহ মাঠের নামকরণ করা নিয়ে আটলঙ্কা ও বন্যাগাড়ী গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার থানায় ও স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বসে দুই গ্রামের প্রধানরা। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই চরম উত্তেজনা চলছিল উভয় গ্রামের লোকজনের মধ্যে।
গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে আবারও নামফলক লাগানো নিয়ে উভয় গ্রামের লোকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষই লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ভাংচুর করা হয় ঘরবাড়ি। নিক্ষেপ করা হয় ইট পাটকেল।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী, থানার ওসি মনজুরুল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর উভয়পক্ষের আহতদের উদ্ধার করে পাবনা, আটঘরিয়া ও চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বন্যাগাড়ী গ্রামের মানুষের দাবি, যেহেতু ঈদগাহ মাঠটি পূর্বপুরুষ থেকে একসঙ্গে ব্যবহার হয়ে আসছে তাই নামকরণ দিতে হলে দুই গ্রামের নামে ঈদগাহ মাঠের নামকরণ আটলঙ্কা বন্যাগাড়ী ঈদগাহ মাঠ করতে হবে। কিন্তু তা করবে না আটলঙ্কা গ্রামের মানুষ। মূলত এই নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। মূলত ঈদগাহ মাঠের নামকরণ করা নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।