হাসিব আল আমিন, নোয়াখালী
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ২০:১৪ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ২০:২৬ পিএম
নোয়াখালীর হাতিয়ার এমভি আহাদ-২ ট্রলারের ২১ জন জেলে চার মাস সাগরে মাছ শিকারের অভিযান শেষে ফিরেছেন উৎসবমুখর পরিবেশে। উত্তাল সাগর আর ঘূর্ণিঝড়ের ভয় জয় করে তারা সংগ্রহ করেছেন প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ।
এবার তাদের ফিরে আসা ছিল একেবারেই ভিন্নরকম। সাজানো ট্রলার, এক রঙের পোশাক, গান-বাজনা আর নেচে-গেয়ে ফিরেছেন তারা। সরকারি নির্দেশনায় মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। এ সময়কে ঘিরে জেলেরা ফিরেছেন পরিবার-পরিজনের কাছে, আর সেই ফেরা রূপ নিয়েছে এক উৎসবে।
সরেজমিন চেয়ারম্যান ঘাটে দেখা যায়, এমভি আহাদ-২ ট্রলারটি বর্ণিলভাবে সাজিয়ে ফিরেছেন জেলেরা। এক রঙের পোশাকে থাকা এই ২১ জনের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি আর আনন্দের ঝিলিক। ট্রলার ঘাটে ভিড়তেই সেখানে ভিড় জমে যায় শত শত মানুষের। দীর্ঘদিন পরে জেলেদের এমন প্রত্যাবর্তন যেন এক আনন্দমেলা। কয়েক বছর ধরে সরকারি নিষেধাজ্ঞার এই বিরতিকে জেলেরা উৎসবে পরিণত করেছেন।
ট্রলারের মাঝি শুভ চন্দ্র দাস বলেন, শেষ দিনের ফেরাটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সবাই মিলে ট্রলার সাজিয়েছি। একই ধরনের পোশাক পরে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছি। মালিক আরিফ মাঝিকেও কৃতজ্ঞতা স্বরূপ পাঞ্জাবি উপহার দিয়েছি।
ট্রলারের মালিক মো. আরিফ মাঝি বলেন, ২১ জন জেলে এক পরিবারের মতো কাজ করি। এবারে চার মাসে পেয়েছি প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ। যদিও গত বছর তা ছিল ৭০ লাখ। খরচ বাদে প্রতিজনের ভাগে এসেছে গড়ে ৪০-৪৫ হাজার টাকা। সবাই খুশি হয়েই উৎসবের আয়োজন করেছে।
সাগর ফেরত জেলে মো. রাফুল বলেন, চার মাস সাগরে কীভাবে দিন কাটিয়েছি, তা আল্লাহ আর আমরা ছাড়া কেউ জানি না। ঝড়ের রাতে মনে হয়েছিল হয়তো আর বাঁচব না। তাই ঘরে ফেরাটা অন্যরকম আনন্দ দিয়েছে। সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতেই ট্রলার সাজিয়েছি, একই পোশাক পরেছি।
আরেক জেলে মো. মামুন বলেন, এবার হাতে পাওয়া টাকা দিয়ে নতুন জায়গা কিনেছি। নদীভাঙনে আগের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। সরকার যদি হাতিয়ার নদীভাঙন রোধে উদ্যোগ নিত, আমাদের মতো জেলেদের জীবন সহজ হতো।
ব্যবসায়ী মো. আকবর হোসেন বলেন, আজ জেলেদের বিদায়ের উৎসব, আর কাল থেকে ব্যবসায়ী-দোকানদারদের হালখাতা উৎসব শুরু হবে। অবসরের প্রথম কয়েকদিন জেলেরা কোনো কাজ করেন না, পরে জাল-নৌকা মেরামত ও সংসারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আত্মীয়দের বাড়ি যাওয়া ও বিয়ে-শাদির আয়োজনও এ সময়ে হয়ে থাকে।
চেয়ারম্যান ঘাটের আড়তদার মাহবুবুল আলম ইউসুফ বলেন, আগে প্রচলিত ছিল দীর্ঘ মাছ শিকার শেষে জেলেরা সাজানো ট্রলার নিয়ে ফিরতেন। এখন মাছ কমে যাওয়ায় সে রেওয়াজ কিছুটা হারিয়ে গেছে। তবে এবার এমভি আহাদ-২ ট্রলারটি সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে কঠোর নজরদারি থাকবে। মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাবে। আশা করি নিষেধাজ্ঞা সফল হলে প্রচুর পরিমাণ মাছ পাওয়া যাবে। এতে জেলে ও সংশ্লিষ্টরা উপকৃত হবেন।