আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:৫২ পিএম
ঢাকার আশুলিয়ায় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা এবং নার্সদের অবহেলার কারণে মিনহাজ নামের ২ বছরের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, গলায় খাবার আটকে তার মৃত্যু হতে পারে।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে ওই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. হাবীবুর রহমান।
শিশু মিনহাজ আশুলিয়ার জামগড়া কাঠালতলা এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে।
শিশু মিনহাজের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে হালকা জ্বর ও কাশি নিয়ে মিনহাজকে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পরপরই শিশুটিকে একটি ইনজেকশন পুশ করা হয়। ইনজেকশন পুশ করানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
শিশুটির মা অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে একটা ইনজেকশন দেওয়ার পরই তার শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। আমি নার্সদের ডাকলেও তারা সময়মতো আসেননি। একপর্যায়ে তারা বলেন, কিছু হয়নি, ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই আমার ছেলে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর প্রায় কয়েক ঘণ্টা আমার বাচ্চা কোথায় আছে, তাও বলেননি। পরে খুঁজে বের করে দেখি আমার বাচ্চা মৃত।
পরিবারের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার আগে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ওষুধের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই মিনহাজকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শিশুটির চাচা বাঁধন ইসলাম জানান, ডেঙ্গু পজিটিভ নিয়ে তার ভাতিজা মিনহাজকে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আমরা তার লাশ গ্রামের বাড়ি রাণীশৈংকল নিয়ে যাচ্ছি।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক হাবীবুর রহমান জানান, শিশুটিকে সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে এখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর ভালোর দিকেই ছিল। সম্ভবত শিশুটিকে কোন খাবার খাওয়ানো হয়েছিল যা খাদ্য নালীতে আটকে যায় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। একটা মৃত শিশুকে তো আর ওয়ার্ডে রাখা যায় না, তাই মারা গেলে যেখানে মরদেহ রাখা হয় সেখানেই রাখা হয়েছিল।
আশুলিয়া থানার ওসি মো. আব্দুল হান্নানের ব্যবহৃত মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।