ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:০১ পিএম
ফেনীর ফুলগাজী এলাকায় মুহুরী নদীর পানি কিছুটা কমলেও আতঙ্ক কাটেনি। বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানির কারণে নদীর পানি বেড়ে ফুলগাজী বাজারের আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়। বর্তমানে পানি কিছুটা কমলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত বুধবার দুপুর ফুলগাজী পুরাতন পশুর হাট-সংলগ্ন স্লুইস গেট দিয়ে পানি প্রবেশ করে বাজার ও ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের কিছু অংশে পানি ঢুকে পড়ে। এতে বেশকিছু দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পানি কিছুটা কমলেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ব্যবসায়ীদের মাঝে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, নদীর পানি কমেছে ঠিকই, তবে ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টি হলে আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙনের শঙ্কা রয়েছে। এখনো থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কখন কি হয় তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতের উজানের পানিতে গতকাল থেকে নদীর পানি বাড়লেও এখন ধীরে ধীরে কমছে। বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটারের মধ্যে আজ দুপুর ২টার দিকে নদীর পানি ১০ দশমিক ২৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফাহাদ্দিস হোসাইন বলেন, ফুলগাজী পুরাতন পশুর হাট-সংলগ্ন স্লুইস গেট পূর্বে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেখানে ময়লা ফেলে সংস্কার করা স্থানটি নষ্ট করে ফেলেছেন। তবে নদীর পানি কমলে বাঁধ ভাঙনের শঙ্কা নেই।
ফুলগাজী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, গত বছরও একই স্থান দিয়ে পানি ঢুকে বাজার প্লাবিত হয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়সারা কাজের কারণে আবারও পানি ঢুকেছে। এখানে তাদের গাফেলতি রয়েছে। স্লুইসগেইট ও পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে বারবার এ ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবসায়ীদের দায়ী করে যে অভিযোগ করছেন তা মনগড়া, এসব সত্য নয়।
ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, আজ দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভারতের উজানের পানিতে মুহুরী, কুহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধ ভেঙে ফুলগাজী-পরশুরামের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়।