পিরোজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪১ পিএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:৪৮ পিএম
প্রতিদিন সকালে ভ্যানগাড়ির ওপর শুয়ে নিজেই ভ্যান চালিয়ে রাস্তায় বের হন ইমরান। প্রবা ফটো
স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন কাঠুরে মো. ইমরান শেখ। ২০১১ সালে বিয়ে, তারপর দুই সন্তানের জন্ম, কঠোর পরিশ্রম করে তাদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ২০১৯ সালে সেই স্বপ্ন এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ভেঙে যায়।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের পর গাছ কাটতে গিয়ে গাছ থেকে নিচে পড়ে যান ইমরান। এতে তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং স্পাইনাল কর্ড ছিঁড়ে যায়। সেদিন থেকেই বদলে যায় তার পুরো জীবন। কোমরের নিচ থেকে চিরতরে অচল হয়ে পড়ে। হাঁটা, বসা তো দূরের কথা, সারাদিন তাকে শুয়ে থাকতে হয়।
গত ছয় বছর ধরে এমন করুণ বাস্তবতার সঙ্গেই পথ চলছেন ইমরান। প্রতিদিন সকালে ভ্যানগাড়ির ওপর শুয়ে নিজেই ভ্যান চালিয়ে রাস্তায় বের হন। মানুষের কাছে সাহায্য চান, যা পান তাই দিয়েই চলে সংসার। দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা উপার্জন হয় তার। তাতেই কোনোমতে চলে চার সদস্যের পরিবার।
অভাবের সংসারে খাবার জোটানোই যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসার স্বপ্ন দেখা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই দুর্ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত ইমরান আর চিকিৎসা করাতে পারেননি। নাজিরপুরের একটি আবাসনে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকেন তিনি। ভ্যানগাড়িতে ওঠা-নামাও করতে হয় অন্যের সহায়তায়।
ইমরানের দুই সন্তানের লেখাপড়াও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। টাকার অভাবে পড়াশোনা ঠিকমতো চালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। অথচ সন্তানদের মানুষ করে তোলাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
আক্ষেপ করে ইমরান বলেন, ‘প্রতিদিন মনে হয় জীবনটা থমকে গেছে। ছয় বছর ধরে শুধু ভ্যানের ওপর শুয়ে আছি, এই ভ্যানই এখন আমার ঘর, আমার পৃথিবী।’
নাজিরপুরের এই অসহায় মানুষটির জীবন যেন সমাজের বঞ্চিত, দুঃখী মানুষদের এক প্রতিচ্ছবি। একটু সহায়তা, চিকিৎসা আর সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারো স্বপ্ন দেখতে পারতেন তিনি ও তার পরিবার।