মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম, হিলি (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০১ পিএম
শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, সীমান্ত ঘেঁষা মানুষের কাছে এটি যেন আবেগের উৎসব। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর সীমান্তে সেই উৎসব এখন রূপ নিয়েছে দুই বাংলার মিলনমেলায়। কাঁটাতারের বেড়া দুই দেশকে আলাদা করেছে বটে, কিন্তু মানুষের আনন্দ, আবেগ ও হৃদয়ের টানকে আটকাতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বেলা ১২টায় দেখা যায়, হিলি চেকপোস্টের নোম্যান্স ল্যান্ডে শত শত মানুষের পদচারণায় চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে। সীমান্তের দুই প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। কেউ পূজা দেখতে, কেউবা অনেক দিন দেখা হয়নি এমন স্বজনকে অন্তত দূর থেকে দেখার জন্য এসেছেন।
উৎসবের আমেজ সীমান্তজুড়ে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ হিলি সীমান্তে আসছেন। অপরদিকে ভারতের ভেতর থেকেও অসংখ্য মানুষ আসছেন বাংলাদেশের দুর্গাপূজা দেখতে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে একে অপরকে দেখতে না পারলেও দূর থেকে ছবি তুলে নিচ্ছেন অনেকে, কেউবা হাত নেড়ে দিচ্ছেন ভালোবাসার বার্তা।
রাজশাহী থেকে আসা দর্শনার্থী অমিত সাহা বলেন, কাঁটা তারে দুই বাংলাকে ভাগ করেছে, কিন্তু মানুষের মন ভাগ করতে পারেনি। আগে আমরা এক ছিলাম। ভালোবাসার টানেই এখানে আসি, আবার স্বজনদের দূর থেকে হলেও দেখতে পাই।
স্থানীয় উচ্ছ্বাস আহমেদ জানান, পাসপোর্ট-ভিসাধারীরাই সীমান্ত পার হয়ে অপর প্রান্তে যেতে পারেন। যাদের নেই, তারা দূর থেকেই স্বজনদের দেখেন। তবে যদি সামান্য ভেতরে যেতে দেওয়া হতো, তবে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি প্রিয়জনদের সঙ্গে মন খুলে কথাও বলা যেত।
হিলি চেকপোস্ট দিয়ে ভারতগামী এক যাত্রী জানান, তিনি নওগাঁ থেকে এসেছেন ভারতের দুর্গাপূজা উপভোগ করতে। তার ভাষায়, ভারতের পূজা খুব জমকালো হয়, তাই যাচ্ছি। অনেকেই এভাবে ভারত যাচ্ছেন, আবার ভারত থেকেও বাংলাদেশে আসছেন।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিলি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী পারাপার বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকে অনেকে ভারতে যাচ্ছেন, আবার ভারত থেকেও বহু দর্শনার্থী আসছেন বাংলাদেশে। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও অনেকে যাচ্ছেন।
যদিও সীমান্তে কড়া নিরাপত্তায় রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা, তবুও কাঁটাতারের দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের চোখেমুখে আনন্দ, আবেগ আর ভালোবাসার আবহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একে অপরকে দেখার আকাঙ্ক্ষা, দূর থেকে হলেও স্বজনদের সাথে হাসি বিনিময়। সব মিলিয়ে এই দৃশ্য সীমান্তে এক অনন্য আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এমন মিলনমেলা তাই শুধু দুর্গাপূজার আনন্দই নয়, দুই বাংলার মানুষকে হৃদয়ের বন্ধনে আরও কাছে টেনে আনে। কাঁটাতারের বেড়া তাদের শারীরিকভাবে আলাদা করলেও মন ও ভালোবাসায় দুই বাংলার মানুষ একাকার হয়ে ওঠেন এই শারদীয় উৎসবে।