খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:১০ পিএম
খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা।
ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা তিন চিকিৎসক হলেন—জয়া চাকমা, মোশারফ হোসেন ও নাহিদা আকতার।
দলের নেতৃত্ব দেওয়া খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জয়া চাকমা বলেন, ‘আমরা মেডিকেলে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি, কিন্তু আসলে ধর্ষণের কোনো আলামত পাইনি। আলামত পরীক্ষার ১০টি সূচকের সব কটি স্বাভাবিক এসেছে।’
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সূত্রে জানা যায়, সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে ধর্ষণের পরীক্ষার ১০টি সূচকের সব কটিতে স্বাভাবিক লেখা রয়েছে। এর অর্থ, ধর্ষণের কোনো আলামত নেই।
পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে
এদিকে টানা কয়েকদিনের উত্তেজনা ও সহিংসতা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে খাগড়াছড়ির পরিস্থিতি। দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে, হাট-বাজারে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে, সড়কে বাড়ছে যানবাহন। বুধবার দুপুরের পর থেকে জেলার প্রধান সড়কগুলোতে ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।
জেলার সদর, পৌর এলাকা ও গুইমারা উপজেলায় এখনো ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলে ধাপে ধাপে এ ধারা প্রত্যাহার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা জুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ টহল অব্যাহত আছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, যেখানে চলছে কড়াকড়ি তল্লাশি। এতে জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও বিজিবির কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, কয়েকদিনের অচলাবস্থার পর আবারও হাট-বাজার সচল হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে। তবে ১৪৪ ধারা ও তল্লাশির কারণে এখনো স্বাভাবিক চলাচলে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফেরানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।