চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:১০ পিএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৫ পিএম
চট্টগ্রামের গোসাইলডাঙ্গায় একটি পুকুর ভরাট করে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ওই ভবনের নকশা অনুমোদন করেছে। এ ঘটনায় দুই বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করলেও ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে মামলার তদন্তও এখনো শেষ হয়নি।
জানা গেছে, গোসাইলডাঙ্গার আবিদারপাড়া এলাকার বিএস খতিয়ানভুক্ত ৩৭৫ ও ৩৭৬ দাগের ওপর ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর তিনতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় সিডিএ। এর মধ্যে ৩৭৬ দাগের জমি পুকুর শ্রেণিভুক্ত। ভবন নির্মাণ শুরু হলে স্থানীয় আখতারুজ্জামানের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে পুকুর ভরাটের সত্যতা পায়। এরপর ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, সিডিএ অনুমোদিত নকশার অংশবিশেষ পুকুর শ্রেণিভুক্ত জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে। স্থানীয়রাও নিশ্চিত করেছেন সেখানে আগে একটি পুকুর ছিল। ভবন নির্মানের জন্য এটি ভরাট করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন—আমির আহম্মদ, আহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ হোসেন, আবদুল হাকিম, নুরজাহান বেগম, সুফিয়া খাতুন ও বিবি জুলেখা। তারা সবাই ওই জায়গার মালিক। তবে পুকুর ভরাট করে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া সিডিএ কর্মকর্তাদের কাউকে মামলায় আসামি করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শক মনির হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আগামী মাসে চার্জশিট দেওয়া হবে। তবে সিডিএ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোন নির্দেশনা নেই। ভূমির মালিকদের আসামি করার নিয়ম রয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধেই চার্জশিট দেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে প্রায় ২৫ হাজার পুকুর ও জলাশয় ছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তা কমে মাত্র ১ হাজার ২৪৯টিতে দাঁড়ায়। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিঘি ও পুকুর দখল ও ভরাটের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে—এনায়েত বাজার এলাকার রানীর দিঘি, আসকার দিঘি, পাহাড়তলীর পদ্মপুকুর, বড় মিয়ার মসজিদ পুকুর, হালিশহরের খাজা দিঘি, চান্দগাঁওয়ের মুন্সি পুকুর, বাকলিয়ার আবদুল্লাহ সওদাগর পুকুর, আশকার দিঘি, আগ্রাবাদের ঢেবার দিঘি, মিনামার দিঘি, কর্নেল দিঘি, কর্নেল হাট দিঘি, হাজারীর দিঘি, কারবালা পুকুর, ভেলুয়া সুন্দরীর দিঘি, কাজীর দিঘি প্রভৃতি।