পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:১৫ পিএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:১৮ পিএম
খুলনার পাইকগাছায় গ্রুপিংকে পুঁজি করে বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেনের আত্মহত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে কুচক্রী মহল। তারা দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চক্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হয়। সম্মেলনে ভোটাররা ভোট দিয়ে সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করেন। রাতে ভোটগণনা শেষে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সামনে ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে মোশাররফ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেলিম রেজা লাকির পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে লাকি পরাজিত হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মোশাররফ। পরে গভীর রাতে তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, এ বিষয়টিকে পুঁজি করে একটি গ্রুপ অপপ্রচার করছে, বিজয়ী প্রার্থীর লোকেরা তাকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করেছেন বলে অপ্রপচার চালানো হচ্ছে। এমনকি বলা হয়েছে, তাকে মারপিট করায় অভিমানে তিনি আত্মহত্যা করেন।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক কামাল আহম্মেদ সেলিম নেওয়াজ জানান, নির্বাচনের দিন কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বরং উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, পাইকগাছায় বিএনপির মধ্যে দুটি গ্রুপ। অন্য গ্রুপের প্রার্থী পরাজিত হয়ে অহেতুক ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। ভিন্ন মতাদর্শের লোকদের দিয়ে অপপ্রচার করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুস সবুর বলেন, সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
অপরদিকে, মোশাররফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দাবি করে অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন সুমন বলেন, তাকে (মোশাররফ) অপমান করায়, সে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।
স্থানীয় অনেকেই বলছেন, মোশাররফ পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক। সে অনেকটাই অস্বাভাবিক এবং আবেগী ছিল। তার মাথায় সমাস্যা আছে। সে যার পক্ষে কাজ করেছে, সে পরাজিত হওয়ায় আবেগে আত্মহত্যা করতে পারে।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।