সানোয়ার হোসেন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:২০ এএম
পেয়ারা বেগমের ঘরে তিনটি লাইট ও দুটি ফ্যান। অসুস্থ স্বামী বজলের রহমান শয্যাশায়ী। ভিক্ষা করে চলে তার সংসার। প্রিপেইড মিটার লাগানোর পর প্রথম মাসে বিল এসেছে ২ চাজার ৬৬১ টাকা, গত মাসে বিল এসেছে ৮ হাজার ৪৩৪ টাকা। তার আগে প্রতি মাসে গড়ে ৮০০-৯০০ টাকা বিল আসতো। এই বিল নিয়ে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার শ্রীপুর গ্রামের এই বাসিন্দা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে সমস্যার কথা বলতে গেলে সংশ্লিষ্টরা বিদ্যুৎ বিল রেখে দেন।
উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের জুগিরহাট গ্রামের শাহ আলম। আগস্ট মাসে দুটি লাইট, দুটি ফ্যান ও এক ফ্রিজের বিল এসেছে ৯২ হাজার ৭৩০ টাকা। জুলাই মাসে বিল ৬৪৮ টাকা। কোনো বকেয়া না থাকার পর এমন ভুতুড়ে বিলে বিস্মিত এই গ্রাহক। তিনি এখন ঘুরছেন কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে।
একই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের না জানিয়েই লাগিয়েছে কার্ড মিটার। জুলাই মাসের বিল ৯০০ টাকা, আগস্টে ১ হাজার ৮৪৯ টাকা। খোরশেদ আলম বলেন, আমি নিয়মিত বিল পরিশোধ করে থাকি। কোনো বকেয়া নেই আমার। গত মাসে বিল দিয়েছে ১ হাজার ৪০৪ টাকা, এ মাসে দিয়েছে ২১ হাজার ৯০১ টাকা। এখন কীভাবে এই বিল দেবেন এই কৃষক।
পৌরসভার পূর্ব চান্দিশকরা গ্রামের মমিনুল ইসলাম বাড়িতে থাকেন না। বেশিরভাগ সময় পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। জুলাই মাসের বিল ছিল ১ হাজার ৫৬২ টাকা, আগস্টে ১৩ হাজার ৮৪৩ টাকা। এমন অবিশ্বাস্য বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে এসেছেন এই গ্রাহক। এখন কর্মকর্তারা বলছেন মাসে ৪ হাজার টাকা কিস্তিতে বিল দিতে হবে।
গতকাল রবিবার এসব ভুতুড়ে বিল নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আবাসিক প্রকৌশলীর অফিসে জড়ো হন শতাধিক বিক্ষুব্ধ গ্রাহক। সংযোগ বিচ্ছিন্নের ভয়ে তারা ঘুরছেন কর্মকর্তাদের কাছে। এমন বিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। প্রতিকার চেয়ে ঘুরছেন বিদ্যুৎ অফিসের বারান্দায়। তবে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বলছেন এসব ভুতুড়ে বিল কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
অবশ্য এমন ভুতুড়ে বিল নিয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা একে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। সব দায় চাপাচ্ছেন মিটার রিডারদের ওপর। তবে অফিসে খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো মিটার রিডারকে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের সহআবাসিক প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানও দায় চাপালেন মিটার রিডারদের ওপর। তিনি বলেন, মিটার রিডাররা গ্রাহকদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সঠিক বিল না করে কম বিল করেছে। আবার সশরীরে না গিয়ে, মিটার না দেখে অফিসে বা বাসায় বসে ইচ্ছেমতো বিল করেছে। যার ফলে মিটারে অনেক বকেয়া জমা পড়েছে। বর্তমানে সরকারের নির্দেশনায় কার্ড মিটার প্রতিস্থাপন করতে গিয়ে পুরনো মিটারে ইউনিট জমা পাচ্ছি। মিটারটা ক্লোজিং করতে গিয়ে একসঙ্গে বকেয়া বিল চলে আসছে। আমরা গ্রাহকদের এসব বিল কিস্তি আকারে দিতে বলছি। সংশ্লিষ্ট মিটার রিডারদের বরখাস্ত করা হবে। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।