নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:০০ পিএম
নোয়াখালীর হাতিয়া ও রামগতি উপজেলার সংযোগস্থল তেগাছিয়া বাজার এবং হাতিয়ার টাংকির ঘাট এলাকা থেকে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৬৭০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আফসার সায়মার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হাতিয়া, রামগতি ও সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনীর একটি দল এবং হাতিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ জানান, অভিযানে তেগাছিয়া বাজার থেকে ৩৭০ বস্তা এবং টাংকির ঘাট থেকে আরও ৩০০ বস্তা—মোট ৬৭০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পাচারে ব্যবহৃত দুটি ট্রাকও আটক করা হয়। জব্দ হওয়া ৩৭০ বস্তা সার সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং বাকি ৩০০ বস্তা সার হাতিয়ার হরনি ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আটক ট্রাক দুটি বর্তমানে চরজব্বর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সার পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩২৭ বস্তা সার ও ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম হয়ে মিয়ানমারে পাচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় পাচারচক্র এখন নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলকে নতুন রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আফসার সায়মা বলেন, সরকারিভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা ভর্তুকিযুক্ত সার পাচারের কারণে কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। এতে সরকারের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে চোরাকারবারিরা অবৈধভাবে বাড়তি মুনাফা লুটে নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা দিয়ে সাগরপথে এ ধরনের পাচার রোধে জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।