শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:০১ পিএম
অভিযুক্ত চিকিৎসক মারজিয়া আক্তার
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ‘আপা’ ডাকায় ক্ষেপে গিয়ে রোগীসহ অভিভাবককে সেবা না দিয়ে বের করে দিয়েছেন এক নারী চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘আপা’ নয় তাকে ‘ম্যাডাম’ ডাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কাজী মাসুম জানান, তিনি তার ১১ বছরের মেয়ের পেটে ব্যথা নিয়ে ঘটনার দিন দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক অনন্যা তাকে জরুরি কিছু ওষুধ লিখে দেন। হাসপাতালে সরবাহ না থাকায় ওষুধ আনতে দোকানে যান। কিন্তু বিভিন্ন দোকান ঘুরেও একটি ওষুধ না পেয়ে আবার হাসপাতালে আসেন মাসুম।
জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসারের কক্ষে গিয়ে দেখেন চিকিৎসক অনন্যা ডিউটি শেষ করে চলে গেছেন। পরবর্তী ডিউটিতে আছেন মারজিয়া খাতুন। এসময় মাসুম এ চিকিৎসককে ‘আপু’ ডেকে বলেন, আগের চিকিৎসক যে ওষুধ দিয়েছিল সেখানকার একটি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। সেটার পরিবর্রতে অন্য কোন ওষুধ দেওয়া যায় কিনা।
কাজী মাসুমের ভাষ্য, এসময় মারজিয়া উচ্চস্বরে তাকে বলেন, ‘আপু বলছেন কেন, ম্যাডাম ডাকতে সমস্যা কোথায়? আমি একজন মেডিকেল অফিসার। যান, বের হয়ে যান।’
এসময় মাসুম বলেন, ‘আপু ডেকে কি দোষ করেছি? সেবাটা অন্তত দেন।’ কিন্তু তাতে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে কয়েক বার ধমক দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে চিকিৎসক মারজিয়া বলেন, ‘আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া কারো সঙ্গে কোনো কথা বলব না।’
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাহেরাতুল আশরাফি বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। হয়তো ভুল করে তিনি এ কথা বলেছেন। তবে আমাদেরকে অফিসিয়ালি অভিযোগ বা সরাসরি কথা বললে শনিবার আসতে হবে।’
জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন শাহিন মিয়া বলেন, ‘আপা বা ভাই বলা আন্তরিকতার ব্যাপার। এখানে আমরা সেবাদান করার মন মানসিকতা নিয়ে এ পেশায় এসেছি। আজকের ঘটনাটি আমি এখনো শুনিনি। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।’