কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৬ পিএম
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে পারিবারিক কলহের জেরে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ বস্তা ভর্তি করে বসতভিটার পাশে মাটিচাপা দেওয়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশের একটি দল সদর উপজেলার খুরুশকুল দক্ষিণ ডেইলপাড়া কুরিমারিয়ারছড়া এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি খুঁড়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত মোহাম্মদ ছৈয়দ (৫০) একই এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ রফিক নিহত মোহাম্মদ ছৈয়দের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত মোহাম্মদ ছৈয়দের সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। কয়েক বছর আগে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে খুরুশকুলের কুমারিয়ারছড়া এলাকায় এসে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। পরিবারটি রোহিঙ্গা নাগরিক। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মোহাম্মদ সৈয়দের বাড়ির আশপাশের উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ালে এলাকাবাসীর সন্দেহ জাগে। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে কয়েকজন তার বাড়ির ধানক্ষেতের পাশে সদ্য মাটিচাপা দেওয়া একটি শার্ট দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের পৌঁছে মাটি সরিয়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তার রফিকের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ‘সোমবার ভোরে তার শ্বশুর স্থানীয় মসজিদে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে শাশুড়ির সঙ্গে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে তার স্বামীও কলহে জড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বামী রফিক বাবাকে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে। আঘাতে তার শ্বশুর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, পরে মৃত্যু হলে লাশ বস্তাবন্দি করে ঘরে ফেলে রাখা হয়। পরে মধ্যরাতে সৈয়দের স্ত্রী, দুই সন্তান রফিক ও সাহাবউদ্দিন জিয়া মিলে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে মাটিচাপা দিয়ে লাশ পুঁতে রাখে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ইলিয়াছ খান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।