সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:২৬ পিএম
সাতক্ষীরা জেলার আসাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা এবং আওয়ামী মহিলা লীগের ইউনিয়ন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা খাতুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফুলতলা বাজারে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ‘আসমা হঠাও, প্রতাপনগর বাঁচাও’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
বিএনপি’র সাবেক সভাপতি স.ম আখতারুজ্জামান (সভাপতিত্বে) মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- সমাজসেবক নূরি আলম সিদ্দিকী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক আতিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা কারিমুজ্জামান, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধীর স্বামী আব্দুল সালাম, ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেন, সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন- জন্মনিবন্ধে ইচ্ছাকৃত ভুল, ভুল সংশোধনের নামে বারবার অর্থ গ্রহণ, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতার টাকা নিজের পরিবারের নাম্বার দিয়ে আত্মসাৎ, বিভিন্ন অনলাইন সার্ভিসে সরকারি ধার্যকৃত ফিসের অতিরিক্ত টাকা আদায়, অনৈতিক অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করে আসছেন প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য উদ্যোক্তা মহিলা লীগ ইউনিয়নের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা খাতুন।
এসময় নূরি আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আসমা খাতুন চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের হক মেরে নিচ্ছেন। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা থেকে টাকা কেটে নেওয়া, নাম্বার পরিবর্তন করে নিজের পরিবারের নম্বরে টাকা তোলা—এসব অপরাধের দ্রুত বিচার দাবি করছি। না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
অভিযুক্ত আসমা খাতুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার মায়ের হারিয়ে যাওয়া সিমে ভুলক্রমে একবার একটি ভাতার টাকা চলে এসেছিল, যা আমি সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আমি কোন টাকা তুলিনি।’
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী দাউদ ঢালী বলেন, আসমার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ শুনেছি। তাই তাকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।