× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভুয়া বিল প্রকল্পে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ ইউএনও’র

ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৫০ পিএম

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর ক্লাব ও লাইব্রেরি। প্রায় ৯০ বছর আগে যাত্রা শুরু হয় ক্লাবটির। দীর্ঘ সময়ের পদযাত্রায় ছিল উত্থান-পতন, তবে থেমে যায়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাসে ২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে উপজেলা পরিষদ। কিনতে হবে ক্রীড়াসামগ্রী। ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও অনুদানের টাকা সম্পর্কে কিছুই জানেন না ক্লাবটির সদস্যরা। পাননি কোনো আর্থিক সহযোগিতা।

একইভাবে জুন মাসে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের একতা যুব ক্লাব ও কুমারপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আসবাবপত্র ও খেলাসামগ্রী কেনার জন্য ২ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়। এ দুই নামেও ক্লাবের সন্ধান মিলেনি। নামই শোনেননি স্থানীয় খেলোয়াড় ও বাসিন্দারা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন। ছয় মাসে এমন ভুতুড়ে বিলের রাজ্যে পরিণত হয়েছে সদর উপজেলা পরিষদ। মার্চ মাসে রহিমানপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম ও সালান্দর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য পুলক চন্দ্র সেনকে প্রকল্প চেয়ারম্যান বানিয়ে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়। দুটি ইউনিয়নের খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণের কথা থাকলেও প্রকল্প সম্পর্কেই জানেন না সভাপতিরা।

অপরদিকে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িটি পুড়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। গ্যারেজে মেরামতে রেখে দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৮১৮ টাকার ভুয়া জ্বালানি বিল।

জানুয়ারি মাসে একই স্থানের ভিআইপি পর্দা কেনা হয়েছে ২ বার। জুন মাসে একটি মারসেবল পাম্প কেনা হয়েছে ৩ বার, একই ধরনের স্যানেটারি মালামাল কেনা হয়েছে ৩ বার। এছাড়াও ইলেটক্ট্রিক ও সিসিটিভি মেরামত-মালামাল ক্রয় দেখানো হয়েছে একাধিকবার। তবে, এসব বিলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলে জানান বিল গ্রহণকারীরা।

ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে এসব বিল বানানোর কারিগর সদর উপজেলার জারিকারক নুরুল ইসলাম নুরু। নিউজ অনুসন্ধানের খবরে তাড়াহুড়ো করে বদলি করা হয় তাকে। অভিযোগ রয়েছে, নুরুর মাধ্যমেই সকল প্রকল্পের কমিশন যেত ইউএনও-এর পকেটে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, যোগদানের পর থেকে বাকশাল কায়েম করেছেন ইউএনও। টাকা ছাড়া দেন না কোনো সেবা। শুধু কর্মস্থলে নয়, চাকরি প্রভাব খাটিয়েছেন নিজ এলাকা বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নিজ বাড়িতে যাতায়াত করেন সরকারি গাড়িতে। বগুড়া শহরে ১০ শতক জমি, গ্রামে ডুপ্লেক্স বাড়ি, রয়েছে মসজিদের জমি দখলেরও অভিযোগ। পতিত সরকারের নেতাদের আদলে পেয়েছেন প্রশাসনে চাকরি। গণঅভুত্থানের পরে পাল্টে ফেলেছেন ভোল। নিজেকে দাবি করেন বৈষ্যমের শিকার।

মুথরাপুর ক্লাব ও লাইব্রেরির বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, আমাদের ক্লাবের নামে বরাদ্দ হয়েছে আমরা জানি না। আমরা আবেদন দেইনি অথচ বরাদ্দ নাকি ৪ মাস আগে পেয়েছি। আমাদের কোনো সদস্যের এই বরাদ্দের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। যদি দিতে চায় তাহলে আমাদের বরাদ্দগুলো দেওয়া হোক। ক্লাবের কাজে আসুক।

বালিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় খেলোয়াড়রা বলেন, কুমারপুর স্পোটিং ক্লাব এই নামে কোনো ক্লাব নেই আমাদের এখানে। আমরা আজই এই ক্লাব সম্পর্কে অবহিত হলাম।

প্রকল্প সভাপতি সালান্দর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো প্রকল্প সম্পর্কে জানি না। 

রহিমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য পুলক বলেন, আমি প্রকল্প সম্পর্কে জানি না। আর কোনো ক্রীড়াসামগ্রী কেনাকাটা করিনি। এসব প্রকল্প সম্পর্কে আমাদের অবহিত করা হয়নি।

রুপসী বাংলা অয়েল পাম্পের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে চেয়ারম্যানের গাড়ি তেল নেওয়া হয়নি। এই বিলের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র রায় বলেন, টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। সব প্রকল্পের টাকা নুরুকে দিতে হয়। সে বলে এসব টাকা ইউএনও’কে দিতে হয়। ১৪ পার্সেন্ট থেকে শুরু করে ১৭ পার্সেন্ট পর্যন্ত দিতে হয়।

এসব ভুতুড়ে বিল সম্পর্কে জানতে চাইলে কথা বলতে নারাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম। তিনি রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন গণমাধ্যমকর্মীদের।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, আমি অভিযোগগুলো শুনেছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা