ভাঙ্গায় অবরোধ ঘিরে সহিংসতা
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৫২ পিএম
উপজেলা পরিষদে বিক্ষোভকারীদের ভাঙচুরের চিত্র। প্রবা ফটো
সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় চলমান তৃতীয় ধাপের অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের তাণ্ডবে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গোটা এলাকা। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ ও থানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
এদিন সকালের দিকেই সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশও শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। পুলিশের উপস্থিতির খবর আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে জড়ো হয়।
জানা যায়, সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে সড়ক অবরোধ করে। এরপর প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে।
দুপুর ১২টার দিকে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে। পুলিশ পিছু হটে গিয়ে ভাঙ্গা ঈদগাহ মারকাজ মসজিদে আশ্রয় নেয়। সেখানেও হামলা হয়, এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং মসজিদের একটি কাঁচের জানালা ভেঙে যায়।
পরবর্তীতে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একদল আন্দোলনকারী ভাঙ্গা থানায় ও অন্যদল উপজেলা পরিষদে হামলা চালায়। থানায় হামলার সময় পুলিশের একাধিক যানবাহন, জলকামান, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল ও অফিস কক্ষ ভাঙচুর করা হয়।
অন্যদিকে, উপজেলা পরিষদে হামলাকারীরা মূল গেটের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। ইউএনও কার্যালয়সহ একাধিক দপ্তরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। দপ্তরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নেয়া হয় এবং কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এসময় ভাঙ্গা উপজেলা চত্বরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন মাই টিভির ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি সরোয়ার হোসেন।সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে একদল দুষ্কৃতিকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
এ সময় হামলাকারীরা তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সহকারী কামাল হোসেন বলেন, “হাজারো আন্দোলনকারী হঠাৎ করে মূল ফটক ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। প্রথমে ইউএনও মহোদয়ের কক্ষে হামলা করে এবং এরপর একে একে প্রতিটি দপ্তরে ভাঙচুর চালায়। আমরা প্রাণ রক্ষার্থে পালিয়ে যেতে বাধ্য হই। ইউএনও স্যারের কোনো ক্ষতি হয়নি।”
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, “আমরা সবাই থানার ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ প্রায় এক হাজার মানুষ থানায় এসে ভাঙচুর চালায়।”
জানতে চাইলে উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন বলেন, “আন্দোলনকারীরা গেটে এসে অতর্কিত হামলা চালায় এবং থানার গাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর করে।”
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।